সোনাগাজী প্রতিনিধি->>

সোনাগাজী উপজেলার বড় ফেনী নদীতে জেলেদের জালে আবারও ধরা পড়ল ২ ও ৩ কেজি ওজনের ২৫টি ইলিশ। ওজন করে দেখা গেছে, ২৫টি ইলিশের মধ্যে ৫টি প্রায় তিন কেজি করে ওজনের। অপর ২০টির ওজন ২ থেকে ২ কেজি ৫০০ গ্রাম করে। দুটি জালে ধরা পড়েছে ছোট-বড় আরও প্রায় ২০০ কেজি ইলিশ। সব মিলিয়ে জেলেদের জালে প্রায় সাড়ে ছয় মণ ইলিশ ধরা পড়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলের দিকে মাছগুলো জালে আটকা পড়ে। পরে মাছগুলো নদীর তীরে আড়তে নিয়ে নিলাম করলে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী নেয়ামত উল্যাহ ও আবদুল মান্নান যৌথভাবে ৪ মণ ৫ কেজি ইলিশ ১ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন। অপর ২ মণ ২২ কেজি মো. মোস্তফা ও জামশেদ আলম ৭৫ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। তাঁরা বাজারে এনে ২৫টি বড় মাছ ১ লাখ ৫ হাজার ২০০ টাকাসহ সব কটি মাছ ২ লাখ ৮১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার আদর্শগ্রাম এলাকার জেলে নাসির উদ্দিন, মো. ইলিয়াছসহ ১২ থেকে ১৪ জন জেলে দুটি ট্রলারে করে মঙ্গলবার সকালে ইলিশ ধরতে বড় ফেনী নদীর শেষ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জাল ফেলেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জোয়ার কমতে থাকায় জেলেরা জাল টেনে ট্রলারে তুলছিলেন। পরে জাল টেনে ট্রলারে তুলতেই সবাই দেখতে পান, বড় বড় ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। সঙ্গে ছোট ইলিশও ধরা পড়ে।

জেলে নাসির উদ্দিন ও ইলিয়াস বলেন, মাছ ধরা শেষে বিকেলের দিকে নদী থেকে ফিরে মাছগুলো স্থানীয় আড়তে বিক্রি করতে নিয়ে যান। সেখানে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে তাঁরা মাছগুলো বিক্রি করেন। তাঁদের আশা, আগামী পূর্ণিমায় নদী ও সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।

মৎস্য ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান বলেন, বাজারে উৎসুক অনেকে বড় ইলিশ মাছগুলো দেখতে ভিড় করেন। আবার অনেকে শখ করে বেশি দাম হলেও দু–একটা করে মাছ কিনে নেন।

নেয়ামত উল্যাহ বলেন, ৩ কেজির ইলিশ ১ হাজার ৮৫০ এবং ২ থেকে ২ কেজি ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজি দর হাঁকান। পরে ১ হাজার ৫০০ ও ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বড় ইলিশ বিক্রি করেন। এ ছাড়া অন্য ইলিশগুলো ৬০০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে।

মো. মানিক নামের এক ক্রেতা বলেন, বাজারে আসার পর বড় ইলিশ মাছ দেখে তিনি শখ করে ২ ও ২ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের ৫টি ইলিশ ১৭ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে কিনে নেন।

উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন, এই মৌসুমে বড় ফেনী নদীতে একাধিকবার তিন, আড়াই ও দুই কেজি ওজনের বড় ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। সামনের পূর্ণিমায় বড় বড় মাছ আরও ধরা পড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় স্থানীয় জেলেরা উপকৃত হচ্ছেন। মাছের বংশবিস্তার বেড়েছে।