বিশেষ প্রতিনিধি->>

নিউজ পেপার, রাইটিং পেপার, প্রিন্টিং পেপার। কাগজের গুণগত মান ভিন্ন হলেও সব ধরনেরই দাম বেড়ে চলেছে সমানতালে। এর ফলে মুদ্রণ ব্যয় বাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সংশ্লিষ্টখাতের সঙ্গে জড়িতরা।

ফেনীর পাইকারি কাগজের বাজার ঘুরে দেখা যায়, পূর্ণ আকারের এক রিম সাদা কাগজের দাম দুই মাসে বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

ফেনী বড় মসজিদ রোডের কাগজ ব্যবসায়ী কটুমিয়া অ্যান্ড সন্সের সত্ত্বাধিকারী মো. মিনহাজ উদ্দিন দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানান, কাগজের মিল থেকে ওজন হিসেবে কাগজ কেনা হয়ে থাকে। অর্থাৎ মেট্রিক টন হিসেবে কাগজ কিনে রিম হিসেবে খুচরা বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, এক বছর আগে দেশের প্রথম স্তরের পেপার মিলে টনপ্রতি কাগজের ক্রয়মূল্য ছিল ৭৭ থেকে ৮০ হাজার টাকা। কয়েক দফায় দাম বেড়ে রোববার (৩১ জুলাই) হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা। আর দুই মাস আগে সাদা এক রিম কাগজের দাম ছিল ১ হাজার ৪০০ টাকা। এখন তা বেড়ে ১ হাজার ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী নুরুল হুদা জানান, মিল থেকে লেখা ও মুদ্রণ উপযোগী দুই ধরনের কাগজই বিপণন হয়ে থাকে। যেহেতু ওজন হিসেবে মিলগুলো কাগজ বিক্রি করে থাকে তাই পাতলা কাগজের চেয়ে মুদ্রণযোগ্য মোটা কাগজের দাম অনেক বেড়েছে।

ফেনী মুদ্রণ বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুধু কাগজ নয় কালি, শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ফেনী জেলা মুদ্রণ শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি রাজিব নাথ মুদ্রণ বাজারের বর্তমান চিত্র প্রসঙ্গে বলেন, কাঁচামালের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহক চাহিদা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। একদিকে অতিরিক্ত ব্যয় বিপরীতে আয় না বাড়ায় মুদ্রণ শিল্পে ধস নেমেছে।

ফেনী শহরের কাগজ ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন জানান, কাগজের দাম বৃদ্ধিতে শিক্ষা উপকরণের ওপর প্রবল নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এক বছর আগে যে খাতাটি শিক্ষার্থীরা ৪০ টাকায় কিনতো এখন তা কিনতে হবে ন্যূনতম ৬৫ টাকায়।

শাওমি স্টেশনারির পরিচালক হাসান শাহরিয়ার জানান, কাগজের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে বাজারে বিক্রিও কমেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেনীতে মুদ্রণ যন্ত্র রয়েছে এমন ছাপাখানার সংখ্যা ২৬টি। গত পাঁচ বছরে প্রায় ১০টি ছাপাখানা আর্থিক ক্ষতির কারণে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয় ফেনীর মুদ্রণ শিল্প। বেশির ভাগ ছাপাখানা পুঁজি সংকটে পড়েছে বলে জানায় সূত্র।

‘মুদ্রণ শিল্পের কথা; অতীত ও বর্তমান’ শীর্ষক একটি বইতে দেখা যায়, ১৯৭০ সালে ফেনীতে ২৫টি ছাপাখানা ছিল। এ বিবেচনায় ফেনীতে মুদ্রণ শিল্পের প্রসার ঘটেনি। দেশে ব্যাপক হারে বাড়লেও ফেনীতে কমেছে।