ফুলগাজী প্রতিনিধি->>

ফুলগাজী পোস্ট অফিসে দীর্ঘ তিন মাস ডিপোজিট বন্ধের কারণে প্রতিনিয়ত হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন গ্রাহকেরা। এতে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফুলগাজী পোস্ট অফিসে নিরাপত্তা জনিত কারণে গ্রাহক তাঁদের মূলধন গচ্ছিত রাখেন। মাস শেষে ঝুঁকি ছাড়া তাঁদের মুনাফা গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু গেল তিন মাস যাবৎ ফুলগাজী পোস্ট অফিসে সম্পূর্ণ ডিপোজিট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তাই প্রতিদিন গ্রাহক ডিপোজিট করতে আসলে ফুলগাজীতে ডিপোজিট করতে পারেন না। ডিপোজিট করার জন্য তাঁদের ফেনী জেলা সদরে যেতে হয়। এ নিয়ে অনেক হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন তাঁরা। যদি ফুলগাজীতে ডিপোজিট দ্রুত চালু করা হয় তাহলে গ্রাহকদের ২৫ কিলোমিটার পাথ অতিক্রম করে আর জেলা শহরে যেতে হবে না।

ফুলগাজী পোস্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, এখন সব কার্যক্রম অনলাইনে করতে হয়। ফুলগাজী অফিসে অনলাইনে কাজ করা লোকের অভাব। অনলাইন চালু না থাকার কারণে ডিপোজিট বন্ধ রয়েছে। অনলাইন চালু হলে এই হয়রানি কমবে এবং গ্রাহক তাঁদের সুবিধা পাবে এবং অফিসও লাভবান হবে।

গত ২০২১ সালের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী দেখা যায়, এক মাসে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার মতো ডিপোজিট হয়েছে। কিন্তু এখন বন্ধ থাকায় কেউ আর টাকা জমা দিতে পারছেন না। পাশাপাশি সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না রাজস্ব।

ফুলগাজী বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সঞ্জীব বণিক নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ফুলগাজী পোস্ট অফিসে কোনো প্রকার ডিপোজিট নেওয়া হচ্ছে না। যার কারণে আমরা আমানত গচ্ছিত রাখতে পারছি না। ফলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দ্রুত যদি ডিপোজিট চালু করা হয় তাহলে আমরা উপকৃত হব।’

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাস্টার মেহের আলি বলেন, আজ প্রায় তিন মাস ডিপোজিট বন্ধ। প্রতিদিন ৮/১০ জন করে টাকা রাখার জন্য আসেন। কিন্তু বন্ধ থাকার কারণে আমরা জমা নিতে পারি না। অনলাইন ব্যবস্থা না থাকার কারণে সমস্যা হয়েছে। ফুলগাজী পোস্ট অফিসে অনলাইন চালু হলে গ্রাহক সুবিধা হবে এবং সরকার রাজস্ব পাবে।’