সোনাগাজী সংবাদদাতা->>

সোনাগাজীর চরচন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলনের অনুগতদের বিরুদ্ধে মৎস্য প্রকল্পে হামলা চালিয়ে মাছ লুট ও প্রকল্প দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যানের জন্য দাবীকৃত এসি না পেয়ে মাছ লুট ও প্রকল্প দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন খামারের মালিক রহমত উল্যাহ আজাদ। মঙ্গলবার বিকালে সোনাগাজী প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান মিলনকে দায়ী করেন খামারের মালিক রহমত উল্যাহ আজাদ।

লিখিত বক্তব্যে রহমত উল্যাহ আজাদ বলেন, সোনাগাজী উপজেলার পূর্ব বড়ধলী মৌজার ডাঙ্গিখালের পূর্বপাশে আমার পশু খামার রয়েছে। দারিদ্র বিমোচন প্রকল্পের আওতায় গত ৫ বছর আগে খামারটি প্রতিষ্ঠা করি। খামার প্রতিষ্ঠার পর উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন ও চরচন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে সরকারের সকল নিয়ম কানুন মেনে বৈধভাবে খামারটি পরিচালনা করছি। গত বছর খামারের ভেড়ার জন্য বাবর নামের ব্যক্তির কাছ থেকে আড়াই একর জমি লীজ নিয়ে পুকুর খনন করে সুপেয় পানি সংরক্ষন করার ব্যবস্থা করি। গত তিন মাস আগে রুস্তম সিকদার নামে এক ব্যক্তি প্রকল্পে গিয়ে আমাকে প্রকল্প ছেড়ে দিতে বলে। কেন প্রকল্প ছেড়ে দিবো প্রশ্ন করা হলে তিনি চেয়ারম্যান মিলন নির্দেশ দিয়েছে বলে আমাকে জানায়। পরে মিলন চেয়ারম্যানের কাছে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাকে প্রকল্প ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে নির্দেশ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, গত ৩১ জুলাই রুস্তম সিকদার, সবুজ ও নাছির নামে তিন ব্যক্তি আমার প্রকল্পে হামলা চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। আমি চেয়ারম্যান মিলনকে ফোন দিলে তিনি পুনরায় প্রকল্প ছেড়ে চলে যেতে হুমকি প্রদান করেন। এর আগেও চেয়ারম্যানের বাসায় ব্যবহারের জন্য হামলাকারীরা আমার কাছে এসি দাবী করেন। আমি এসি দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা আমাকে সহ তিনকে পিটিয়ে আহত করে প্রকল্প দখলের হুমকি দেন। পরে চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকল্প তাদের কাছে হস্তান্তর করে চলে যেতে বলেন।

তিনি দাবী করেন, তার সব সম্ভল বিক্রি করে তিনি প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছেন। প্রকল্পটি মিলন চেয়ারম্যানের অনুগামীরা দখল করে নিলে পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকবে। তার প্রকল্প রক্ষা ও হামলা হুমকি থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসন ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এর আগে সোমবার দুপুরে মাছ লুট ও প্রকল্প দখল চেষ্টার অভিযোগে রহমত উল্যাহ আজাদ বাদি হয়ে রুস্তম শিকদার,সবুজ ও নাছির উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বাদির থানায় অভিযোগের খবর পেয়ে চেয়ারম্যান মিলন ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বিভিন্ন উপায়ে চাপ প্রয়োগ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন রহমত উল্যাহ আজাদ।

অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন বলেন, ঘটনার সাথে আমার কোন যোগসুত্র নেই। এসি চাওয়ার বিষয়টিকে অবান্তর দাবী করেন তিনি।

অভিযুক্ত তিন হামলাকারী রুস্তম শিকদার, সবুজ ও নাছির উদ্দিন তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবী করেন।

সোনাগাজী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গির আলম বলেন, অভিযোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্প পরিদর্শন করে সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আইনের আওয়তায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।