ফুলগাজী প্রতিনিধি->>

আমন চাষাবাদে সেচের প্রধান উৎস বৃষ্টির পানি। কিন্তু এ বছর বর্ষা মৌসুম পেরিয়ে যাচ্ছে, বৃষ্টির দেখা নেই। ফুলগাজীতে প্রচণ্ড রোদে কৃষিজমির মাটি শুকিয়ে গেছে। উপজেলার ৬ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে বৃষ্টি না হওয়ায় এখনো আমন রোপণ হয়নি। তাই আমনচাষিদের হতাশা যেন দিন দিন বেড়ে চলছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আমন চাষে বৃষ্টি না হওয়া কৃষকেরা এখন পর্যন্ত জমিতে ধান রোপণ করতে পারেননি। এবার উপজেলার প্রায় ৬ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। মাত্র ১০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে।

ষাটোর্ধ্ব কৃষক মো. আবুল কালাম বলেন, ‘আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার নজির আমি আর কখনো দেখিনি। এই প্রথম দেখলাম, বর্ষাকালে এত রোদ। অতীতে শ্রাবণ মাসের প্রথমে আমন ধানের চারা জমিতে রোপণ শেষ করেছি। এবার এখন পর্যন্ত তা পারিনি।’

আরেক কৃষক মো. জাকির হোসেন বলেন, এ বছর বৃষ্টির পানি না থাকায় জমিতে আমন ধান চাষ করতে পারব কি না জানি না। গত শনিবার রাতে একটু বৃষ্টি হওয়ায় গতকাল রোববার সকালে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছি। প্রচুর বৃষ্টি ন হলে জমিতে আমন রোপণ করতে পারব না। আর চাষ না হলে কষ্ট এবং দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, আমনের চারা রোপণ করতে হয় ২৫ দিনের মধ্যে। ২৫ দিনের বেশি চারার বয়স হয়ে গেলে সমস্যা হয়। যদি আরও ১৫ থেকে ২০ দিন বৃষ্টিপাত না হয় বা তারপরে যদি বৃষ্টি হয়, তাহলেও রোপণে কোনো সমস্যা হবে না।

এ ক্ষেত্রে কৃষকেরা আগে চারা রোপণের সময় তিন-চারটি চারা দিলেই হতো, এখন ছয়-সাতটি করে চারা রোপণ করবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দেবেন। তাহলে মোটামুটি ক্ষতিটা পুষিয়ে আসবে।