নিজস্ব প্রতিবেদক->>

ফেনীর দাগনভূঞায় আপন ছোট ভাই সৌদি ফেরত পলাতক আসামি ইয়াবা ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিন(৩৮) ও তার স্ত্রী ফেনীর চিহৃত প্রতারক, সুদী কারবারী, নারী নির্যাতন ও চেক প্রতারণার মামলাসহ ডজন খানেক মামলার আসামী মোসাম্মর রুমা আক্তারের(৪৫) আত্যচারে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বড় ভাই সৌদি প্রবাসী আলাউদ্দিন।

দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের সেকান্তরপুর গ্রামের সুলতান আহাম্মেদের বাড়ীর সৌদি প্রবাসী আলাউদ্দিন দীর্ঘদির পর দেশে ফিরে বাড়ি ঢুকতে না পেরে বর্তমানে শশুর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে। নিজের অর্থে তৈরী করা বাড়ি ফিরে পেতে আদালত, থানা পুলিশ, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দারে দারে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। থানা পুলিশের পক্ষ থেকে অসযোগীতার অভিযোগ সহ বাড়ি ফিরে পেতে ও আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রবাসী ও তার পরিবার।

সোমবার বিকেলে শহরের একটি রেস্ট্ররেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সৌদি প্রবাসী আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমি জিবিকার তাগিদে দীর্ঘ ২৩বছর যাবত সৌদি আরবে বসবাস করছি। আমার আপন ছোট ভাই সাহাব উদ্দিন দীর্ঘ ১৭ বছর একটানা সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় গাড়ি চুরি, লোন এবং মানুষের টাকা আত্নসাৎ করার কারনে সৌদি আরবে তার বিরুদ্বে মামলা হওয়ার হওয়ায় সে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে দীর্ঘ দিন যাবত এলাকায় ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে। চলতি বছরের ৩ জুলাই ২০০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ তাকে হাতেনাতে আটক করে। বর্তমানে সে জেল হাজতে রয়েছে।’

সৌদি প্রবাসী আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমি বিগত ১২ বছর পুর্বে আমার গ্রামের বাড়িতে ফাউন্ডেশন সহ ৭রুম বিশিস্ট একটি দালান ঘর নির্মান করি। আমার স্ত্রী কামরুন নাহার ওই ঘরে নিয়মিত বসবাস করছে। সে মাঝে মাঝে তার বাবার বাড়িতেও যেয়ে থাকে। ছোট ভাই ও মামলার আসামী সাহাব উদ্দিন সৌদি আরব থেকে মামলার কারনে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আমার ১২বছর পুর্বে নির্মীত ঘর দখলের পায়তারা করতে থাকে। আমি ২০১৯ সালের ২০ জুন সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসে তিন মাস বাড়িতে অবস্থান করে ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জিবীকার তাগিদে প্রবাসে চলে যায়। এরপর আমার ছোট ভাই ও তার স্ত্রী প্রতারক রুমা আমার এলাকার কিছু দূকৃতীকারী ও সন্ত্রাসীর সহযোগীতায় অন্যায় ভাবে আমার নির্মিত ঘর দখল করে। আমার স্ত্রী কামরুন নাহার তাদেরকে বাধা প্রদান করলে আসামীরা লোকমারত সামাজিক ভাবে আমার স্ত্রীকে অপমান অপদস্থ করে। আমার স্ত্রী তার মায়ের অসুস্থতার কারনে বাবার বাড়িতে গেলে ওই বছরের (২০১৯) ৬ ডিসেম্বর ছোট ভাই সাহাব উদ্দিন(৩৮) ও তার স্ত্রী মোসাম্মর রুমা আক্তার(৪৫), আমার বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন (৫২) ও তার স্ত্রী আলেয়া বেগম(৩৮) এবং আমার ভাতিজা (গিয়াস উদ্দিনের ছেলে) ফারুখ (২৪) আমার ঘরের সদর দরজা ভেঙ্গে আমার ঘরে থাকা দুটি মালামালে পরিপূর্ন লাগেজ, তিনটি ব্রিফকেস, ১১টি বিদেশী কম্বল, ৪০ ইঞ্চি সনিটিভি সহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল চুরি করা সহ আমার বশত ঘরের সকল জিনিসপত্র ভাংচুর এবং ধামা দিয়ে কেটে দশ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে।

ওই হামলা ও লুটপাটের ঘটনার আমার স্ত্রী ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর দাগনভুইয়া থানায় (জি আর মামলা নং-১৭৯/২০১৯, দন্ডবিধির ৪৪৮/৩৮০/৪২৭/৩৪ ধারা) মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামী সারেন্ডার করার সময় চুরির বিষয় স্বীকার করে চেয়ারম্যান থেকে অনুমতি নিয়েছে মর্মে জানালে আমলী আদালত আসামীকে সি/ডাব্লিউ মূলে জেল হাজতে প্রেরনের আদেশ প্রদান করেন। ওই ঘটনার পর সকল আসামীদের সহযোগীতায় আসামী সাহাব উদ্দিন জামিনে যেয়ে ২০২০ সালের ১৩ মে আমার স্ত্রীকে মারধর ও হত্যার চেস্টা করে। ওই ঘটনায় আমার স্ত্রী দাগনভুইয়া থানায় আরও একটি মামলা (জি আর মামলা নং-৭৭/২০২০) দায়ের করে। ওই মামলার পর আসামীরা পুনরায় আমার ঘর দখলের চেস্টা করলে আমার স্ত্রী ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট ফেণীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (ফৌজদারী কার্য্যবিধি আইনের ১৪৫ ধারা মোতাবেক মিস মামলা নং-১৫০/২০২০)মামলা দায়ের করে। বিচারক আমার ঘর এর উপর স্থিতিবস্থার আদেশ প্রদান করেন। ওই তিনটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে প্রবাসী আলাউদ্দিন আরও বলেন, ‘আসামীদের এহেন কাজ কর্মে আমি চলতি বছরের (২০২২) ২২ জুলাই সকালে সৌদি আরব থেকে আমার বাড়িতে আসি। এর প্রায় এক ঘন্টা পর আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী প্রতারক মোসাম্মর রুমা আক্তার কয়েকজন সন্ত্রাসী নিয়ে আমার বাড়িতে এসে জোর পুর্বক আমার ঘরে ঢুকে যায় এবং আমাকে হুমকি ধমকি দিয়ে এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে আমাকে আমার ঘর হতে বের করে দেয়। বর্তমানে আমি দীর্ঘ ২৩ বছরের উপার্যন, ঘর, ফার্নিচার ও আমার সহায় সম্ভল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি।’

লিখিত বক্তব্যে প্রবাসী আলাউদ্দিন আরও বলেন, ‘আমার ভাই সাহাব উদ্দিনের স্ত্রী মোসাম্মর রুমা আক্তার একজন প্রতারক শ্রেণির মহিলা। সে ইতিপূর্বে দুইটি বিয়ে করার পর আগের দুই সংসারের ৪টি ছেলে মেয়ে রেখে আমার ভাই সাহাব উদ্দিনকে বিয়ে করে। মোসাম্মর রুমা আক্তার একজন পতিতাদের সর্দার। ফেনীর অনেক মানূষের কাছে মেয়ে ভাড়া দিয়ে তাদের গোপন ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করে তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্বস্বাত করে আসছে। মোসাম্মর রুমা আক্তার আর্থীক ভাবে টানা পোড়েনের মাঝে থাকলেও অনেক মানূষের বিরুদ্বে ৭০ লাখ টাকা, ৫০ লাখ টাকা সহ আরো অনেক বড় বড় এমাউন্টের চেকের মামলা করে বহু টাকা উদ্ধার করেছে। সাধারন মানুষ লজ্জার ভয়ে কাউকে কিছুই জানায় নাই বা অনেকেই মামলা মোকদ্দমা করেনাই। একাধিক মামলায় একাধিকবার সে গ্রেপ্তার হয়ে জেলখেটে জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। মোসাম্মর রুমা আক্তারের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ফেনীর প্রায় সকল পত্র পত্রিকায় প্রতারনার বিষয় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমার বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন, তার স্ত্রী আলেয়া বেগম ও ভাতিজা ফারুখ সকল অপকর্মের স্বাক্ষী এবং সহযোগীতাকারী।’

আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা ৬ ভাই এবং ১ বোন। আমর অপরাপর ভাই ও বোনরা উপরোক্ত আসামীদের এমন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে সামাজীক ভাবে চেস্টা করে মামলা মোকদ্দমা করেও কোন প্রকার সুফল পাইনাই। আসামীগণ পরস্পর যোগসাজসে আমার দীর্ঘ ২৩ বছরের উপার্জন আত্বস্মাত করে আমাকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে আমার থাকার কোন জায়গা নেই। আমি বিভিন্ন জায়গায় সুবিচার পাওয়ার প্রার্থনা আনয়ন করেও কোন প্রকার সুবিচার পাইনাই।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী আলাউদ্দিনের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন, মুসা মিয়া, সায়দুল হক, প্রতিবেশী মোহাম্মদ আবদুল, মোহাম্মদ রায়হান, কাজল মিয়া, মো. আবদুর রউপ মিয়া, মো. ইরিয়াস মিয়া, মো. ইকবাল মিয়া, মোসাম্মদ কামরুন নাহার, শাহিনা আক্তার, পারভিন আক্তারসহ পরিবারের স্বজন ও গ্রামবাসি উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার অফিসর ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান ইমাম বলেন, রুমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক, তবে একটি ঘর নিয়ে দুইজন ভাই দাবি করছে। আইনগতভাবে যতটুকু সহযোগিতা করার দরকার, আমি তাদের সহযোগিতা করব।

অভিযুক্ত রুমা আক্তার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। ইতিপূর্বে আমাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। যে ঘরটা নিয়ে বিরোধ চলছে তাতে আমার মালিকা রয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। যার ৩ শতাংশ আমি ক্রয়সূত্রে মালিক। আর দেড় শতাংশ আমি ওয়ারিশ সূত্রে মালিক। আমি জবর দখল করিনি।’