ঢাকা অফিস->>

কক্সবাজারের টেকনাফে উপহারের ঘর নির্মাণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কায়সার খসরুর ভাষা ব্যবহারকে ‘মাস্তানদের চেয়েও খারাপ ভাষা’ বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর জানাতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন রোববার নজরে আনার পর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ এ মৌখিক আদেশ দেন।

আদালতে এ বিষয়ে দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদন নজরে আনেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

পরে খুরশীদ আলম খান বলেন, আদালত বললেন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আদালত বলেছেন ডিসি সাহেব ‍দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমি বললাম ডিসি সাহেব দুঃখ প্রকাশ করেছেন এটা একটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা এখন পর্যর্ত সে ধরনের কিছু পাচ্ছি না। তখন আদালত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেছেন বিষয়টির বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানাতে।

খুরশীদ আলম খান আরও বলেন, আদালত বলেছেন, যে ভাষায় ইউএনও কথা বলেছেন এটা মাস্তানদের চেয়েও আরো খারাপ ভাষা। এ ধরনের ভাষা দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ব্যবহার করা ঠিক নয়।

২২ জুলাই দৈনিক প্রথম আলোর খবরে বলা হয়, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে নিচু জমিতে প্রধানমন্ত্রী উপহারের ঘর নির্মাণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় কক্সবাজারের এক সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালি দেওয়ার পর এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কায়সার খসরু।

শুক্রবার বিকেলে শহরের হিলডাউন সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে উভয় পক্ষকে নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

উভয় পক্ষ ঘটনার মীমাংসা করলেও ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার মুখ থেকে এ ধরনের কটুবাক্য আশা করা যায় না। ’

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নাম সাইদুল ফরহাদ। তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ঢাকা পোস্ট’-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।

সাইদুল ফরহাদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ইউএনও মোহাম্মদ কায়সার তার অফিশিয়াল মুঠোফোন নম্বর থেকে কল করেন সাংবাদিক সাইদুল ফরহাদকে। এ সময় সংবাদ প্রকাশের কারণ জানতে চেয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। রেকর্ড করা ওই অডিও কলটি সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই অডিও কলে ইউএনওকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই কত বড় সাংবাদিক হইছছ? তুই তো টেকনাফের প্রতিনিধি না। ’ এ সময় সাইদুল ফরহাদ নিজেকে জেলা প্রতিনিধি পরিচয় দিলে ইউএনও তাকে বলেন, ‘কিসের জেলা প্রতিনিধি। ‍ সেদিন তোর বাবা যিনি আসছিল, যে তোর পরিচয় দিছিল সেইজন্য তোর ফোন আমি ধরেছিলাম। তুই যা লিখছছ পুরোটাই মিথ্যা। ’

এ সময় সাংবাদিক ফরহাদ ইউএনওকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি এভাবে কথা বলছেন কেন?’ তখন ইউএনও বলেন, ‘তোর সাথে যে আমি কথা বলতেছিলাম তখনো তো আমি ওই স্পটে ছিলাম ব্যাটা। তুই যে নিউজটা করছছ সেটা মিথ্যা,…। তুই বলছছ যে ঘর পানিতে ভাসছে। তুই যখন আমাকে ফোন দিয়েছিস, তখনো আমি স্পটে ছিলাম। আমার সিনিয়র স্যার ছিল স্পটে। ’