সোনাগাজী প্রতিনিধি->>

সোনাগাজী উপজেলায় বড় ফেনী নদীতে জেলেদের জালে এবার ধরা পড়ল তিন কেজির দুটি ইলিশ। ওজন করে দেখা গেছে, ওই দুটি ইলিশের প্রতিটি ৩ কেজি ১০০ গ্রাম। একই জালে ধরা পড়েছে দুই কেজি ওজনের আরও দুটি বড় ইলিশ মাছ। সেগুলোর প্রতিটি ২ কেজি সাড়ে ৩০০ গ্রাম ওজন হয়েছে।

শনিবার সকালের দিকে মাছগুলো জালে আটকা পড়ে। পরে মাছগুলো নদীর তীরে আড়াতে নিয়ে নিলাম করলে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী নেয়ামত উল্যাহ ২৪ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন। ওই মৎস্য ব্যবসায়ী বাজারে এনে ওই চারটি বড় মাছ ২৬ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেন।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, উপজেলার দক্ষিণ চর চান্দিয়া এলাকার জেলে নুর নবীসহ ছয়জন জেলে আজ ভোররাতে ইলিশ মাছ ধরতে নদীতে জাল ফেলে বসে ছিলেন। বেলা বাড়ার পর জালে আচমকা টান মারলে বুঝতে পারেন, বড় কিছু আটকা পড়েছে। জাল টেনে নৌকায় তুলতেই সবাই দেখতে পান, বড় বড় বেশ কয়েকটি ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে ছোট ইলিশও ধরা পড়েছে।

নুর নবী বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নদী থেকে ফিরে মাছগুলো স্থানীয় আড়তে বিক্রি করতে নিয়ে যান। সেখানে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে তিনি মাছগুলো বিক্রি করেছেন। পৌর শহরের পাইকারি মাছ বিক্রেতা নেয়ামত উল্যাহ তাঁর ছোট-বড় সব কটি ইলিশ মাছ আলাদাভাবে কেজি ধরে কিনে নেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী নেয়ামত উল্যাহ বলেন, দুপুরে মাছ কিনতে আড়তে যান। সেখানে গিয়ে এই মৌসুমের বড় ইলিশ মাছ দেখে অবাক হন। ওজন দিয়ে দেখেন, চারটি ইলিশ মাছের ওজন প্রায় ১০ কেজি ৯০০ গ্রাম। পরে জেলে নিলামে ডাক তুললে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিনি চারটি ইলিশ মাছ ২৪ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন। পরে মাছগুলো বিক্রি করার জন্য পৌর শহরের মাছবাজারে নিয়ে আসেন। নদীর তীরে ও বাজারে উৎসুক অনেকে বড় ইলিশ মাছগুলো দেখতে ভিড় করেন।

নেয়ামত উল্যাহ বলেন, তিন কেজির ইলিশ দুটি তিন হাজার টাকা কেজিদর এবং দুই কেজির ইলিশ দুটি ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজিদর হাঁকেন। পরে বিকেলের দিকে আবদুর রহমান নামের এক প্রবাসীর কাছে ৩ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের দুটি মাছ ২ হাজার ৭০০ টাকা কেজিদরে মোট ১৬ হাজার ৭৪০ টাকায় বিক্রি করেন। এর কিছুক্ষণ পর নুরুল ইসলাম নামের আরেক প্রবাসীর কাছে ২ কেজি ৩৫০ গ্রাম ওজনের দুটি ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজিদরে মোট ১১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, সম্প্রতি বড় ও ছোট ফেনী নদীতে ইলিশ ছাড়াও ৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের কোরাল, বোয়াল, কাতলা, পাঙাশ, বাগাড়সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এসব মাছ বেশ সুস্বাদু। নদীর মাছ সুস্বাদু হওয়ায় দামও একটু বেশি পাওয়া যায়।

উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের আগে মাঝেমধ্যে অন্যান্য প্রজাতির বেশ বড় মাছ পাওয়া গেছে। এই মৌসুমে নদীতে প্রথম তিন কেজি ওজনের বড় ইলিশ মাছ ধরা পড়ল বলে মনে হচ্ছে। তবে সামনে আরও বড় বড় মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় স্থানীয় জেলেরা উপকৃত হচ্ছেন। এ কারণে নদী ও সাগরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার বেড়েছে এবং টানা ও বসানো জালে বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর পরিমাণ মাছ ধরা পড়ছে।