শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীতে মধ্যরাতে ভাসমান মানুষকে গণনার মাধ্যমে জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে (বুধবার প্রথম প্রহর রাত ১২.০১ মিনিটে) শহরের রেলওয়ে স্টেশন, মহিপাল ফ্লাইওভার, শহীদ মিনার চত্বর, রাজাঝি’র দিঘীর পারসহ ভাসমান স্থানের মানুষকে গণনার মাধ্যমে জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম শুরু হয়।

জেলা পরিসখ্যান অফিস সূত্র জানায়, সারাদেশের মতো ১৫ জুন বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ষষ্ঠ ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ কাজ শুরু হয়েছে। শুমারি শুরুর আগে ১৪ জুন রাত ১২টাকে ‘শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট/সময়’হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বাস্তবায়নে সপ্তাহব্যাপী এ জনশুমারি ও গৃহগণনা শেষ হবে ২১ জুন।

রাত সাড়ে ১২টায় শহরের রেলওয়ে স্টেশন সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় মাহমুদুল করিম ও নাজমুল হাসান নামে দুই তথ্য সংগ্রহকারী জনশুমারির কাজ করছে। তারা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় থাকা ভাসমান মানুষের তথ্য তাদের সাথে থাকা নেটযুক্ত ট্যাবে সংগ্রহ করছে।

জনশুমারির কাজে জাড়িত তথ্য সংগ্রহকারী মাহমুদুল করিম বলেন, রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রাতে শুয়ে থাকা ভাসমান মানুষকে ঘুম থেকে তোলে ৪৫টি প্রশ্নের তথ্য সম্বলিত ছক পূরণ করা হচ্ছে। নাম, জেলার নাম, বয়স, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মোবাইল নম্বর, ব্যাংক একাউন্ট নম্বরসহ প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। রাতের এ কাজে পুলিশ তাদের সহযোগীতা করছে।

জনশুমারির কাজে জাড়িত তথ্য সংগ্রহকারী নাজমুল হাসান বলেন, ফেনী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় তথ্য সংগ্রহে দু’জন কাজ করছে। জনশুমারি কাজ শুরুর পূর্বে এই স্থানে কয়েক দফায় প্রাথমিক জরিপ করা হয়েছে। ওই জরিপের মাধ্যমে ধারণা করা হচ্ছে স্টেশন এলাকায় অন্তত ৬০ জনকে জনশুমারির আওয়তায় আনা যাবে।

পুলিশের জেলা বিশেষ শাখা ও মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. শহীদ উল্যাহ জানান, দেশের ষষ্ঠ ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ কাজে নিয়জিত কর্মী ও সুপারভাইজারদেরকে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তাদের কাজ তদারকি করতে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ ও জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যরা কাজ করছে। আমি নিজেই রাত ১২টার দিকে ফেনী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহকারীদের কাজ তদারকি করেছি। সাথে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. মেজবাহ্ উদ্দিন আহমেদও শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট এলাকায় জনশুমারি কাজে নিয়জিত কর্মীদের তদারকি করছেন।

এদিকে ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জানান, রাত ১২ থেকে ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজে জড়িতদের খোঁজ খবর, সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানে মডেল থানাধীন সকল বিট অফিসারবৃন্দকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিট অফিসারদের নাম ও মোবাইল নাম্বার এর তালিকা জনশুমারির কাজে সংশ্লিষ্টদের প্রদান করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিভাগের ফেনীর উপ-পরিচালক গোতম পাল জানান, ফেনীতে ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ পরিচালনার জন্য জেলার ৬ উপজেলায় ৩৩ জন জোনাল অফিসার, ৩৩ জন আইটি সুপারভাইজার, ৫৭৪ জন সুপারভাইজার, ৩ হাজার ২৮৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োহ দেওয়া হয়েছে। তার বুধবার থেকে ৭দিনের মধ্যে বাড়ি বাড়ি যেয়ে জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ সম্পাদন করবে।

জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, সকলের আন্তরিকতা নিয়ে সফল করতে চাই। আপনারা সঠিত তথ্য দিয়ে গণনাকারীদের সহায়তা করুণ।

এর আগে সোমবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরাত দিয়ে এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনশুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হতে যাচ্ছে। একটি ওয়েবভিত্তিক ইনটিগ্রেটেড সেনসাস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইসিএমএস) প্রস্তুতসহ জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমে (জিআইএস) গণনা এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের কন্ট্রোল ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে।

জনশুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে শুমারি কর্মী হিসেবে সারাদেশে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার গণনাকারী, ৬৪ হাজার সুপারভাইজার এবং বিবিএসের সাড়ে ৪ হাজারের অধিক কর্মচারী এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবেন। এছাড়া বিবিএসবহির্ভূত বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রায় ৯ শ’ কর্মচারী জোনাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

শুমারিতে সঠিক তথ্য প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক গান, নাটিকা, ডকুড্রামা, শুমারি কাউন্টডাউন, ডকুমেন্টারি দেশের সব সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যমে প্রচার করা হবে। জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে স্থানীয় ক্যাবল টিভিতে জনশুমারি প্রচার, প্রচারসামগ্রী বিতরণ, ডকুমেন্টারি প্রচারসহ শুমারি চলাকালে মাইকিং করা হবে।

উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনা পরিচালিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ বছর পরপর ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০১১ সালে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ এবং পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়।