ঢাকা অফিস->>

৮ মাস মাঠের বাইরে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২০২১ শারজাহতে অক্টোবরে। একই বছর জুলাইয়ে খেলেছেন শেষ ওয়ানডে ম্যাচ। দেশের হয়ে এই দুই ফরম্যাটে সমান ২৯টি করে ম্যাচ খেলেছেন তবে এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে খেলা হয়নি। এবার ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফিরার সুযোগ হচ্ছে নিজের প্রথম ক্যারিবীয় মিশনে। এরমধ্যে অবশ্য ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ ছাড়া কোনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে খেলা হয়নি। বলার অপেক্ষা রাখে না তেমন কোনো মাঠের প্রস্তুতি ছাড়াই তিনি যাচ্ছেন খেলতে। তবে আধুনিক যুগ ক্যারিবীয় উইকেট আর ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে নিজেকে প্রস্তুত করতে চোখ রেখেছেন ইউটিউবে। গতকাল তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট নেশন সবগুলো দেশে আমি গিয়েছি, বাট ওয়েস্ট ইন্ডিজে এবারই আমার প্রথম। হয়তোবা ওই কন্ডিশন বা উইকেট আমার জানা নেই।

তারপরও যেহেতু ইউটিউবের যুগ, বিভিন্ন ম্যাচের হাইলাইটস দেখছি আসলে কত স্কোরিং হতে পারে। যেসব টি টোয়েন্টি ম্যাচগুলা ওরা খেলেছে, যেহেতু আমার আগে টি-টোয়েন্টি তাই এটা আমি দেখছি। যতটা আইডিয়া নেয়া যায় ম্যাচগুলো দেখে।’

তবে দীর্ঘদিন পর তিনি মাঠে নামছেন নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য সামনে না রেখে। দলের প্রয়োজনে বোলিং-ব্যাটিং সব জায়গাতেই তিনি অবদান রাখতে চান সুযোগ পেলে। তিনি বলেন, ‘আপাতত কোনো লক্ষ্য সেট করিনি। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ওদের সঙ্গে খেলেছি। দেশের মাটিতে অনেকগুলো ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছি। তাই ওদের সঙ্গে খেলার কিছু অভিজ্ঞতা আছে। যদিও ওদের কন্ডিশনে খেলা, এবার প্রথম খেলবো যদি সুযোগ পাই। ভালো জায়গায় বল করলে ব্যাটাররা সবসময় সমীহ করে। খারাপ বলে সবাই বাউন্ডারি মারবে। আবার আমি ব্যাটিংয়ের সময় লুজ বলের অপেক্ষা করি। সব জায়গায় ভালো লাইন-লেন্থ রেখে বল করলে ভালো করা সম্ভব। কন্ডিশন বড় বিষয় নয়।’ এ ছাড়াও লম্বা সময় পর মাঠে ফিরলেও নিজের সামনে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন না সাইফুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। সুযোগ পেলে ভালো করার চেষ্টা করবো। কোনো গোল সেট করিনি। দলের জয়ে ১০ রানও গুরুত্বপূর্ণ হলে সেটা আমার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দলের জন্য উইকেট কাজে লাগলে এটাই আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

অন্যদিকে ইনজুরির সঙ্গে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন সমার্থক যেন বন্ধুর মতোই। তাই চোটকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিলেও অন্যদের চেয়ে নিজেকে খানিক দুর্ভাগাও ভাবছেন তিনি। এমনকি নিজের কোনো সমস্যা আছে কিনা সে নিয়েও ছিলেন দ্বিধায়। ২০১৭ সালে অভিষেকের পর ক্যারিয়ারে একের এক ইনজুরির আঘাত এসেছে। গেল বছর টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে পিঠের চোট নিয়ে দেশে ফেরেন। এরপর শুরু ফিরে আসার লড়াই, তাতে কেটে গেল ৮ মাস। খেলতে পারেননি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগেও (বিপিএল)। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগ দিয়ে অবশ্য ফেরেন মাঠে। তিনি বলেন, ‘ কিছুটা দুর্ভাগা তো বটেই। হয়তো আর পাঁচজন পেস বোলারের চেয়ে আমি কিছুটা আনলাকি। কিন্তু এটা জীবনেরই অংশ। এটা মেনে নিয়েই চলতে হবে। এতোদিন কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম যে আমার ভেতর কিছু আছে কি না। কিন্তু যেহেতু ইংল্যান্ডে গেলাম বিসিবির অধীনে, স্ক্যান করানোর জন্য। তো স্ক্যানে দেখা যায় আমার কিছু হয়নি। তাই কিছুটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বোলিং করছি এখন।’

অবশ্য নিয়মিত চোটে পড়ে অভ্যস্ত সাইফুদ্দিন বলছেন জীবনের বাস্তবতা তাকে শিখিয়েছে বিরতি আসবেই। তিনি বলেন. ‘কিন্তু জানি না কতদিন সুস্থ থাকতে পারবো। চেষ্টা করছি যে যতদিন খেলতে পারি বা সামনে বিশ্বকাপ আছে। ২০২৩ বিশ্বকাপ আছে, তো আমার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সুস্থ থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমার জন্য।’ উদাহরণ দিয়ে ২৫ বছর বয়সী অলরাউন্ডার বলেন, ‘প্রতিটা মানুষের জীবনেই বিরতি থাকে। ঢাকাতে যদি গাড়ি চালান একই গতিতে গাড়ি চালাতে পারবেন না। ব্রেক দিতেই হবে। যারা অনেক ভাগ্যবান, তারা চোট ছাড়া অনেক দিন খেলে যেতে পারে। বেশিরভাগ পেস বোলারেরই এমন থাকে। জানি না আবার কয়দিন খেলতে পারবো। পারফরম্যান্স ও চোটের ব্যাপার আছে। চেষ্টা করছি, কী হবে তা কারও হাতে নেই।