শহর প্রতিনিধি->>

ভারতে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও আম্মাজান আয়েশা (রা.) নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে ফেনীতে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

শুক্রবার সকাল থেকে বিকেলে পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেনী সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট শিক্ষার্থী, বেসরকারী পলিটেকনিক আইসিএসটির শিক্ষার্থী, মহিপাল কলেজ শিক্ষার্থী, ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাব ও ফেনীতে তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

জানা যায়, মহানবী (সা.) এর অপমানের প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১ টার দিকে আইসিএসটির শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে এসে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের দোয়েল চত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এর কিছুক্ষণ পরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ফেনী সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট শিক্ষার্থীরা। একই সময়ে শহরের মহিপাল কলেজ শিক্ষার্থীরাও ট্রাংক রোডে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

অপরদিকে বিকেলে মহানবী (সা.) এর অপমানের প্রতিবাদে ফেনীতে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের সদস্যরা বাইক নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করেছে। একই সময়ে ফেনীতে তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তাগণ ভারতীয় পন্য বর্জনসহ মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানানোর আহবান জানান এবং গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা থাকা দরকার বলে দাবি করেন। নতুবা আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষনা দিবেন বলে হুশিয়ারী দেয় আলেম ওলামারা।

প্রসঙ্গত, ভারতে টেলিভিশনের বিতর্ক অনুষ্ঠানে নবীজি হজরত মুহম্মদ (সা:) ও তার স্ত্রী আয়েশার (রা.) বিয়ে নিয়ে টুইটারে অবমাননাকর মন্তব্য করেন উত্তর প্রদেশের কানপুরে বিজিপি’র নেত্রী নূপুর শর্মা। তাকে সমর্থন দেন দিল্লি বিজেপি’র মিডিয়া শাখার প্রধান নবীন কুমার জিন্দাল।

ভারতে জ্ঞানবাপি মসজিদ নিয়ে একটি টিভি বিতর্ক শোয়ে অংশ নেন নুপুর শর্মা বলেছিলেন, ”ইসলামিক ধর্মীয় বই থেকে কিছু জিনিস লোকেদের দ্বারা উপহাস করা যেতে পারে বলে মনে করা হয়। মুসলমানরা হিন্দু ধর্মকে উপহাস করছে এবং মসজিদ কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে পাওয়া ‘শিবলিঙ্গ’কে একটি ফোয়ারা বলছে”। টিভি-শোয়ে অংশ নিয়ে জ্ঞানবাপি মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে অপসারিত করা হলয়নুপুর শর্মাকে। একই অভিযোগে তলব করা হয়েছে দিল্লিতে BJP-এর মিডিয়া ইনচার্জ নবীন কুমার জিন্দলকেও।

এদিকে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, পাকিস্তান, ইরান, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, বাহরাইনসহ একাধিক মুসলিম দেশ এ ব্যাপারে ভারত সরকারের কাছ থেকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও নিন্দা দাবি করেছে। এসব দেশে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর ব্যাখা দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান এক বিবৃতিতে শর্মার চরম অবমাননাকর মন্তব্যের ‘কঠোরতম প্রতিবাদ’ জানিয়েছে। কাতার বলছে ভারত সরকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। ভারতের ভাইস প্রেসিডেন্ট বেঙ্কাইয়া নাইডুর কাতার সফরের দ্বিতীয় দিনে দোহায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব বলে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনও বিজেপি মুখপাত্রের ইসলাম অবমাননাকর মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে। ভারতে ইসলাম অবমাননার নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি।