সোনাগাজী প্রতিনিধি->>

সোনাগাজী উপজেলায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় দিন-রাত বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা চলছে। প্রতিদিন ১০-১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। এতে বিপাকে পড়েছে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান ব্যবসায়ী, পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

লোডশেডিংয়ে কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটায় উপজেলার ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার খামারি, স্টুডিও স্টেশনারি, লাইব্রেরিসহ সব ব্যবসায়ী।

আগামী ১৯ জুন থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা। বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা। লোডশেডিংয়ের ফলে ভালোভাবে পড়ালেখা করতে না পেরে চিন্তিত তারা।

কয়েক দিনে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সোনাগাজীর জনজীবন। রাত-দিনে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এভাবে নিয়মিত দিনে ১০-১২ বার লোডশেডিং হচ্ছে। এর মধ্যে আগে থেকে ঘোষণা না দিয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে পুরো উপজেলায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। উপজেলার কোথাও বিদ্যুৎ না থাকলেও ২ ঘণ্টার ব্যবধানে সোনাগাজী পৌরসভায় সরবরাহ সচল ছিল। তবে এবার পৌরসভায় নিয়মিত লোডশেডিং চোখে পড়ার মতো।

উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, এখানকার প্রায় ৭৭ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। গ্রাহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তিনটি সাব-স্টেশন চালু রয়েছে। এর মধ্যে সোনাগাজীতে নতুন আরেকটি সাব-স্টেশন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। ৩৩ কেভি গ্রিড লাইন থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে উপজেলাজুড়ে সরবরাহ করা হয়।

সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা এসএসসি পরীক্ষার্থী আরাফাত বলে, ‘১৯ জুন থেকে আমাদের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। দিনে ১০ থেকে ১২ বারের ওপরে লোডশেডিংয়ের কারণে শেষ সময়ে সবগুলো বই ভালোভাবে রিভিশন দিতে পারছি না। দিনের আলোতে পড়া গেলেও রাতে লোডশেডিং হলে পড়তে খুব কষ্ট হয়। চোখের সমস্যা থাকায় মোমবাতির আলোয় পড়তে গেলে চোখ ব্যথা করে। দ্রুত চোখে ঘুম চলে আসে। এ ছাড়া ভ্যাপসা গরমের ক্লান্তি তো আছেই।’

উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভৈরব চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী মো. সুমন বলেন, বিদ্যুতের ঘনঘন যাওয়া-আসা এখন বেড়ে গেছে; ফলে দোকানদারি করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। ফটোকপি, ছবি বের করা ও অনলাইনে চাকরির আবেদনের কাজ পুরো শেষ করার আগেই বিদ্যুৎ হঠাৎ চলে যায়। আবার কখন আসে তা-ও ঠিক নেই। রুবেলের মতো উপজেলার অনেক ব্যবসায়ী একই অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে সোনাগাজী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম (কম) দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার গ্রিডের ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। এখন ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী সমস্যা তৈরি হয়। পরে খবর পেলে দ্রুত সময়ে লাইন সচল করা হয়।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সোনাগাজী জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী সনধ কুমার ঘোষ বলেন, গত বৃহস্পতিবার ফেনী গ্রিডের ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গিয়েছিল। তাই দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ ছিল না। পরে বারোয়ারহাট গ্রিড থেকে নিয়ে বিদ্যুৎ সচল করা হয়। কিন্তু আবার হঠাৎ লাইনে লোড বেশি হওয়ায় লোডশেডিং ছিল। গত শনিবার ফেনী গ্রিডের সমস্যা সমাধান হওয়ায় ৩৩ কেভি লাইন থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।