চট্টগ্রাম অফিস->>

ছয় বছর আগে এক শিশুকে (১১) ধর্ষণচেষ্টার দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭–এর বিচারক ফেরদৌস আরা এ রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দিন বলেন, ভন্ড পীর আসামি মো. হারুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আসামি হারুন পলাতক।

আদালত সূত্র জানায়, বাদীর ১১ বছরের মেয়ে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় নানাবাড়িতে থাকত। ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি বাদীর এক চাচা এনামুল হক মিয়ার একটি পানির মোটর চুরি হয়। মোটরটি কে চুরি করেছে, তা দেখার জন্য এনাম পার্শ্ববর্তী জোরারগঞ্জে আসামির কাছে হাজিরা দেখতে যান। আসামি মো. হারুন এ সময় এনামুল হককে বলেন, মোটর কে চুরি করেছে, তা দেখতে হলে একজন কুমারী মেয়ে লাগবে। বিষয়টি বাদীকে জানালে তিনি নিজের মেয়েকে পীরের কাছে যেতে দিতে রাজি হন।

২০১৬ সালের ২২ জুন দুপুরে বাদীর মেয়েকে হাজিরা দেখার জন্য এনামুল ও তাঁর স্ত্রী সবুরা খাতুন হারুনের বাড়িতে নিয়ে যান। আসামি হারুন শিশুটিকে নিয়ে হাজিরা দেখার কথা বলে তার বাড়ির একটা কক্ষে ঢোকেন। অপর দুজনকে বাড়ির বাইরে থাকতে বলেন। একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে যৌন নিপীড়ন করেন। এ সময় শিশুর চিৎকারে বাইরে থেকে লোকজন এগিয়ে এলে আসামি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হারুনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধর্ষণের চেষ্টা ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত এ রায় দেন।