নিজস্ব প্রতিবেদক->>

ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে নিখোঁজ ছেলে ইয়াসিনের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন বৃদ্ধ বাবা বদিউল আলম (৬৫)। সোমবার দুপুরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বদিউল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অপেক্ষায় আছেন।

বদিউল আলম ফেনীর ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ছেলে মোহাম্মদ ইয়াছিন (২৮) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপোর একজন লরিচালক। গত শনিবার রাতে ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সময় ইয়াছিন ওই ডিপোতে ছিলেন। এর পর থেকে ইয়াসিন নিখোঁজ। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর বন্ধ আছে। দুর্ঘটনার পর ডিপো এলাকা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ইয়াছিনের কোনো খোঁজ পায়নি তাঁর পরিবার।

নিখোঁজ ইয়াসিনের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে ইয়াছিন বিএম কনটেইনার ডিপোতে গাড়িচালকের সহকারী হিসেবে যোগ দেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি বিএম কনটেইনার ডিপোর লরিচালক হয়ে ওঠেন। গত শনিবার রাতে আগুন লাগার সময় তিনি ওই ডিপোতেই ছিলেন।

নিখোঁজ ইয়াসিনের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, গত শনিবার রাতে ডিপোতে আগুন লাগার পর ইয়াসিন ঘটনাস্থল থেকে ফেসবুকে লাইভ করেছিলেন। ওই ভিডিও দেখে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ইয়াছিনকে কল দিয়েছিলেন। ইয়াসিন তখন বলেছিলেন, আগুনের ভয়াবহতা অনেক। তাঁর জন্য বাড়ির লোকজনকে দোয়া করতে বলেন তিনি। কিছুক্ষণ পরই লাইভ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ইয়াসিনের মুঠোফোনের পর্দা অন্ধকার হয়ে যায়। এর পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ নেই।

কনটেইনার ডিপোতে আগুনের ভয়াবহতার খবর সারা দেশে জানাজানি হলে রোববার সকাল থেকে আশপাশের লোকজন ইয়াসিনের বাড়িতে খোঁজ নিতে শুরু করেন। ইয়াসিনের কোনো খোঁজ না পেয়ে ওই বাড়িতে মাতম চলছে। ইয়াসিনের মা বিবি জহুরা বেগম ছেলের শোকে নির্বাক হয়ে আছেন।

মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, চার-পাঁচজন মিলে ডিপোসহ বিভিন্ন স্থানে ইয়াসিনকে তন্নতন্ন করে খুঁজেছেন। কিন্তু কোথাও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ছেলের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ইয়াসিনের বাবাও অসুস্থ হয়ে গেছেন। ইয়াসিনকে জীবিত পাওয়া না গেলেও অন্তত যেন দ্রুত লাশ খুঁজে পাওয়া যায়, সে জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছেন।