পরশুরাম প্রতিনিধি->>

পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর থেকে জগমোহনপুর পর্যন্ত রাস্তার একমাত্র কালভার্টের দুই পাশের মাটি না থাকায় সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে পরিবহনসহ লোকজনের চলাচল বন্ধ হয়ে আছে।

এতে কয়েক বছর ধরে বিকল্প পথে হাঁটতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে। উপজেলা পিআইও অফিসের অর্থায়নে কালভার্ট নির্মাণ হলেও বর্তমানে সেটির দুই পাশে মাটি না থাকায় থাকায় রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছে না লোকজন।

ওই রাস্তা দিয়ে পশ্চিম সাহেবনগর, দুর্গাপুর, উত্তর শ্রীপুর, জগমোহনপুর, জঙ্গলঘোনা, কুন্ডের পাড়ের লোকজনকে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ওই এলাকার লোকজনকে পূর্ব সাহেবনগর এবং ধনিকুন্ডা রাস্তা দিয়ে পরশুরামসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকসহ কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে।

আবুল কাশেম, নিজাম উদ্দিনসহ স্থানীয়রা দাবি করছেন, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে আবেদন করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান, উত্তর শ্রীপুর উত্তর পাড়া থেকে জগমোহনপুর পর্যন্ত রাস্তার একমাত্র কালভার্ট পরশুরাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ের অর্থায়নে ২০০৬ সালের দিকে ভুইয়া এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০ লাখ টাকায় নির্মাণ করে। কিন্তু কালভার্টের দুই পাশে মাটি না থাকায় বর্তমানে কালভার্টটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই স্থানীয় লোকজনকে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তিনি জানান, ওই সমস্যার সমাধান এলজিইডির করে দেওয়ার কথা।

চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য আবদুর রহিম জানান, উত্তর শ্রীপুর থেকে জগমোহনপুর পর্যন্ত রাস্তাটির একমাত্র কালভার্ট বর্তমানে দুরবস্থায় রয়েছে। এক বছর আগে থেকে কালভার্টের দুই পাশে মাটি দেওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে বলে আসছি, কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। এই রাস্তা দিয়ে বর্তমানে যাতায়াত বন্ধ। এখানকার লোকজন বিকল্প পথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে শত শত কৃষক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কালভার্টের দুই পাশে যদি মাটি দিয়ে সমান করা হতো, তবে হেঁটে চলাচলের ব্যবস্থা হতো।

পরশুরাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অজিৎ চন্দ্র দেবনাথ জানান, বর্তমানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে কালভার্টের দুই পাশে মাটি দিয়ে ভরাট করে দিলে যানবাহনসহ লোকজন চলাচল করতে পারত।

পরশুরাম উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস এম শাহ আলম ভুইয়া জানান, বিষয়টি শুনে তিনি অফিসের দুই সহকারী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। প্রয়োজনে এডিবি থেকে বরাদ্দ দিয়ে কালভার্টের দুই পাশে মেরামত করে দেওয়া হবে। নতুন কালভার্টের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে তিনি জানান। প্রকৌশলী আরও জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাহিদাপত্র পাঠালে কালভার্টের দুই পাশে মাটিও পাকা করে দেওয়া সম্ভব হতো।