বিশেষ প্রতিবেদক->>

ফেনী জেলায় অনিবন্ধিত ও অবৈধ হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বুধবার পর্যন্ত জেলার ছয় উপজেলায় ১৪টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী শহরেই পাঁচটি বন্ধ করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।

ফেনী জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জরিমানা করতে পারছেন না। কারণ জরিমানা করার ক্ষমতা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নেই বলে তারা শুধু অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারছেন। ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের সাথে স্বাস্থ্য বিভাগের এ ব্যাপারে কোনো যোগাযোগ নেই। ফলে একই অপরাধে স্বাস্থ্য বিভাগ কেবল অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারছে কিন্তু ভোক্তা অধিকার জরিমানা করছে।

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বশেষ তথ্যে জানিয়েছে, তারা ফেনী সদরে ৫টি, সোনাগাজীতে ৩টি, ছাগলনাইয়ায় ২টি, দাগনভূঞায় ২টি, পরশুরামে ১টি ও ফুলগাজীতে ১টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করেছে।

এছাড়াও পৃথক পৃথক অভিযানে মমতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শতাব্দী ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও এ্যাপোলো হাসপাতালকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

অপরদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিদিন রুটিন মাফিক বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিদর্শন করেন। সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. আসিফ উদ দৌলা সিফাত, ফেনী সদর উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডা. মোমিনুল হক সোহাগ ও সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট মো. এমরান ভূঁইয়াসহ বুধবার পাঁচটি ক্লিনিক পরিদর্শন করেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেলায় ৪৬টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৪টি নিবন্ধিত ও দুটি অনিবন্ধিত। অনিবন্ধিত দুটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এদিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাব আছে ৫৮টি। এর মধ্যে ৪৮টি নিবন্ধিত ও ১০টি অনিবন্ধিত। ইতোমধ্যে অনিবন্ধিত ও অনিয়মের কারণে ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো : ফেনী সদরে মমতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিউ আমেরিকান ডায়াগনস্টিক সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা মেডিকেল সেন্টার, নিউ বারডেম ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও দি হরমোন ল্যাব, পরশুরাম স্কয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফুলগাজীতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ছাগলনাইয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ছাগলনাইয়ায় স্কয়ার হাসপাতাল, সোনাগাজীতে গ্লোবাল হেলথ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডিজিটাল ল্যাব ডাকবাংলা ও আল খিদমাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার কুঠিরহাট, দাগনভূঞায় আয়েশা জেনারেল হাসপাতাল ও দরবেশের হাট ক্লিনিক।

স্বাস্থ্যখাতে বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্ভিস অফিস, উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা তাদের এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে তাদের বৈধ কাগজপত্র চাচ্ছেন। দেখাতে না পারলে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। অবৈধ প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে একযোগে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। একযোগে সব অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে শেষ পর্যন্ত এতে ফাঁক-ফোকর থেকেই যেতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে তিন দিনের মধ্যে অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা জারির পর সারাদেশের ন্যায় ফেনীতেও গত ২৮ মে থেকে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে মমতা ডায়াগনস্টিক, শতাব্দী ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও এ্যাপোলো হাসপাতালকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।