জমির উদ্দিন বেগ->>

ফেনীতে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলাপমেন্ট বোর্ড এর(পিডিবি) ভুতুরে বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা। মিটার লেখকদের বিরুদ্ধে মিটার না দেখেই বিল করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে অহরহ। গ্রাকহদের অভিযোগ পিডিবি অফিসে বার বার অভিযোগ করার পরও থামছেনা তাদের ভুতুরে বিল দেয়ার অভ্যাস। ভুতুরে বিল দেয়ার কারনে গ্রাহকদের পরতে হচ্ছে নানা ঝামেলায়। বিশেষ করে যে সকল বাড়িতে ভাড়াটিয়া আছে তাদের সাথে বাড়িওয়ালাদের বিদুৎ বিল নিয়ে ঝগড়া বিবাদ হচ্ছে নিয়মিত।

গ্রাহকদের অভিযোগ বিদ্যুতের ইউনিট ব্যবহার না করেও কেন আমাদের উপর চাপানো হচ্ছে ভুতুরে বিলের বোঝা, কেন কয়েক মাস পর পর অতিরিক্ত বিল করে আমাদের কাছ থেকে বেশি ইউনিটের বিল কাটা হচ্ছে। বেশ কয়েকজন গ্রাকহ জানান, আমরা অতিশ্রীঘ্রই পিডিবির মিটার রিটার, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

শহরের সর্কিট হাউজ রোডে বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, আমার বাবা মরহুম মো. আবুল হাশেম এর নামে আমার বাসার মিটার। আমার কনজিউমার (ভোক্তা বা গ্রাহক) নম্বার ৩২৫৭৬৮২৫। আমার ৫ মে ২২ তারিখে করা বিল নম্বার ৩৮৮৫৯৫৩২ আমার বিল দেয়া হয়েছে ৬০০ ইউনিট। তার পূর্ববর্তী মাসে বিল দেয়া হয়েছিল ২০০ ইউনিটের যার টাকার পরিমান ১১১২ টাকা। গত মাসে আমাকে যে বিল দেয়া হয়েছিল তখন বর্তমান রিডিং (তখনকার) দেখানো হয়েছিল ৩৫৯০০ ইউনিট। তখনও আমার মিটারে ইউনিট আরও কম থাকায় আমি বিল প্রদান করিনি। কিন্তু ২৩ মে আমার বাসায় পিডিবি যে বিদ্যুৎ বিল পাঠালো তাতে আমার বিল দেখানো হল হলো ৫৬৬০ টাকা। বর্তমান ইউনিট দেখানো হল ৩৬৫০০। বাস্তবে আজ ২২ মে আমার মিটার রিডিং ৩৬২২৬। অথচ ১৫ দিন আগে আমার নামে যে বিল করা হয়েছে তাতে দেখানো হলো প্রায় ৩০০ ইউনিট বেশি।

তিনি আরও জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে আমার বিল দেয়া হয়েছিল ৯৮৭৫ টাকার। তখন আমার মিটারে চেয়ে ৭০০ ইউনিট বেশি বিল করায় আমি পিডিবিতে অভিযোগ করলে তারা জানান দুঃখিত এখন আর কিছু করার নেই। সামনের মাস থেকে সমন্বয় করে দেয়া হবে। বিল কুমিল্লায় করার আমাদের কোন হাত নেই। পরবর্তী মাসে ২০ ইউনিট ও তার পরের মাসে ২০০ ইউনিট করা হয় বলে তিনি জানান।

চলতি মাসে আবার ৬০০ ইউনিটের বিল করায় বিল কি ভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে অভিযোগ করে তিনি জানান পিডিবিকে আজ মৌখিকভাবে জানিয়ে এসেছি, আমি মামলায় যাব পিডিবির বিরুদ্ধে।

আতিকুর রহমান, শহীদ উল্যাহ, ফরিদ হোসেনসহ বিভিন্ন গ্রাহক জানান, পিডিবি খাম খেয়ালি ভাবে নিজের ইচ্ছেমত ভুতুরে বিল করে আসছে। পিডিবির কর্মকর্তাদের অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়না। কখনও বিল করেন কম, কখনও অতিরিক্ত বেশি, আবার কখনও করে থাকেন যে বিল মিটারেই নেই তার চেয়েও অনেক বেশি।

আনোয়ার নামের একজন জানান, আমাদের বাসায় সর্বোচ্চ ব্যবহার হয় ২০০ থেকে ২৫০ ইউনিট। তারা দুই, তিন মাস বিল করে ১৫০ ইউনিট করে তরপর একমাস একসাথে করে বসে ৬শত ইউনিটের উপরে। আরেক ব্যাক্তি জানান, তার বিল ৬০০ থেকে ৯০০ ইউনিটও করা হয় মাঝে মধ্যে। যার কারনে তাদের বাসার বিল প্রতি ইউনিট ৬ টাকার নীচে হওয়ার কথা থাকলেও তখন বিল হয় ব্যবসায়ীক ইউনিটে মানে প্রতি ইউনিট ১০ টাকার আশপাশে। এতে হাজার হাজার টাকা বিনা কারনে আমাদের লোকসান বা জরিমানা দিতে হয়।

মিটার রিডার নোমান হোসেনকে এব্যাপারে পিডিবি অফিসের অভিযোগ কক্ষ থেকে কামরুল নামের এক কর্মকর্তা ফোন করলে তিনি জানান, আমি ঠিকমতোই বিল করেছি।

এব্যাপারে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম জানান, আবুল হাশেম এর নামে যে মিটারটা আছে সেব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। আমি একজন অফিসার পাঠাবো তদন্ত করতে। কয়েক মাস পরপর অতিরিক্ত বিল করার কারনে গ্রাহককে যে ব্যাবসায়ীক বিল দিতে হচ্ছে মানে হাজার হাজার টাকা বাড়তি বিল দিতে হচ্ছে সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে বাহানায় এড়িয়ে যান ও কোন উত্তর দেননি।