ফুলগাজী প্রতিনিধি->>

ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামের ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মরহুমের কবর জিয়ারত ও তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া কামনা করা হয়েছে।

শুক্রবার বন্ধুয়া দৌলতপুর গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত করেন ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবদুল আলিম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও আনন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন মজুমদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, জেলা যুবলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন মজুমদার, ফুলগাজী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সালেহ আহমদ মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক একরাম পাটোয়ারী। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২০ মে শহরের একাডেমি এলাকায় প্রকাশ্যে একরাম চেয়ারম্যানকে গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার বড়ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী থানায় মামলা করেন। পরে তদন্ত করে ৫৫ জনকে আসামী করে আদালতে চার্জশীট দালিখ করে তদন্ত কর্মকর্তা। পুলিশ ও র‌্যাব বিভিন্ন সময়ে ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে ১৬ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তদন্ত কর্মকর্তা হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে দুটি পিস্তল ও কয়েকটি চাপাতি উদ্ধার করে।

মামলার অভিযোগপত্রে পুলিশ ৫৯ জনকে সাক্ষী করলেও আদালত মামলার বাদী, নিহতের স্ত্রী তাসমিন আক্তার, গাড়িচালক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ৫০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। মামলার দীর্ঘ চার বছর পর ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ ততকালীন ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক ওই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৩৯ আসামিকে মৃত্যুদন্ড ও ১৬ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। খালাস পাওয়া ১৬ জনের মধ্যে মামলার প্রধান আসামী বিএনপির নেতা মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মিনার ওরফে মিনার চৌধুরী, একরামের একান্ত সহযোগী ততকালীন আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন পাটোয়ারী ওরফে টুপি বেলাল, যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিস্টার অন্যতম।