পরশুরাম প্রতিনিধি->>

পরশুরাম উপজেলা কৃষি অফিসে মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদে জনবল-সংকট চলছে। এতে কাঙ্ক্ষিত কৃষিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকেরা, ব্যাহত হচ্ছে কৃষি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম। পাশাপাশি ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে পড়েছে এ উপজেলাটি।

জানা গেছে, উপজেলা কৃষি অফিসের ১৮টি পদের মধ্যে ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়েই চলছে অফিসের কার্যক্রম। এমনকি পার্শ্ববর্তী ফুলগাজী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা পরশুরামে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা থাকলে তিনি ছয় মাসের প্রশিক্ষণে আছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা অফিসে বসে আছেন। কৃষকেরা সহযোগিতা চেয়ে পান না এমন অভিযোগের বিষয় তাঁরা বলেন, অফিসে চরম জনবল সংকট। প্রতিনিয়ত অফিসে তথ্য জমা দিতে হয়, তাই অফিসেই থাকতে হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে পারছি না আমরা।’

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল করিম মজুমদার বাদল বলেন, ‘আমিও একজন কৃষক, পরামর্শ নেওয়ার জন্য আমি নিজেও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের খুঁজে পাই না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পদটি শূন্য থাকায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা দায়িত্বে অবহেলা করছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার বলেও কোনো সমাধান হয়নি।’

উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম দুলাল অভিযোগ করেন, বোরো চাষাবাদের শুরু থেকে একাধিকবার সহযোগিতা চেয়েও তিনি কোনো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতা পাননি। মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে উপসহকারী কর্মকর্তারা বলেন, ‘মিটিং আছে পরে কথা বলব।’

পৌর এলাকায় দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেব রঞ্জন বণিক জানান, তাঁর পৌর এলাকায় ১৮ হাজার কৃষক রয়েছেন। তাঁর একার পক্ষে এত কৃষককে সেবা দেওয়া সম্ভব না।

চিথলিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামছুল হুদা জানান, তিনি কৃষকদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন, তবে সেবার জন্য কৃষকদের তাঁর কাছে আসতে হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে দুদিন করে পরশুরাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে দুদিন কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন।

পরশুরাম উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিন্টু কুমার দাস বলেন, ‘শূন্য পদের জন্য অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মাঠ কর্মকর্তাদেরও এখন অফিসে কাজ করতে হচ্ছে। তাই কৃষকেরা মাঝেমধ্যে তাঁদের খুঁজে পান না। শূন্য পদ পূরণের জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই পদগুলো পূরণ হবে।’