শহর প্রতিনিধি->>

ফেনী জেলা যুবলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর থেকে নিজ দলীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সোনাগাজীর চর মজলিশপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুককে অপহরণ করে শারিরীক নির্যাতন করে আহত করে। নিজ দলীয় কোন্দল কে কেন্দ্র করে নিজ দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনী হাতে অপহরণ ও আহত হয় যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক। বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমে ওমর ফারুক ও তার স্বজনদের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।

এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলায় ফেনী পৌর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক নুর ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন মানিক, জেলা ছাত্রদলের সদস্য শেখ ফরিদকে আসামী করা হয়েছে।

ফেনী জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল এক বিজ্ঞপ্তিতে, এহেন ঘৃণ্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। অবিলম্বে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে যুবদল, ছাত্রদল নেতাদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবী করেছেন।।

প্রসঙ্গত, ফেনী শহরের আদালতপাড়া এলাকার খাজুরিয়া থেকে অপহৃত যুবলীগ নেতা ও ইউপি মেম্বার ওমর ফারুককে রামপুর থেকে উদ্ধার করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফেনী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর নির্দেশে তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে নেতাকর্মীরা।

পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার খায়েরের দায়ের করা একটি মামলার হাজিরা দিয়ে মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে আদালত থেকে বের হন সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি মেম্বার ওমর ফারুক। পথে খাজুরিয়া সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা কয়েকজন ফারুককে মারধর করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলতে ধস্তাধস্তি করে। ঘটনা দেখে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দিন বাহার এগিয়ে আসেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকেও গাড়িতে তুলে কিছুদূর নিয়ে ছেড়ে দেয়।

নাছির উদ্দিন বাহার জানান, দুর্বৃত্তরা ফারুকের কাছে ১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। বিষয়টি তিনি মোবাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি ও জেলা যুবলীগ সভাপতি দিদারুল কবির রতনকে জানান। এদিকে ফারুককে অপহরণের খবর জানাজানি হলে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে। খবর পেয়ে শহরের রামপুর এলাকার জব্বার মার্কেট সংলগ্ন স্থান থেকে ফারুককে উদ্ধার করেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি শহীদুল ইসলাম সোহেলসহ কয়েকজন। পরে ফারুককে মাস্টারপাড়ায় নিয়ে এলে নিজাম উদ্দিন হাজারী পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ফারুকের বর্ণনা অনুযায়ী নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপির নির্দেশে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আবদুল কাদের শিপন ওই এলাকার চেরাং পাড়া থেকে অপহরণে জড়িত কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

নেপথ্যে মাটি ব্যবসার বিরোধ
সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি মেম্বার ওমর ফারুককে অপহরণের নেপথ্যে মাটি ব্যবসা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এনিয়ে বিবদমান দু’পক্ষের মামলাও চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েকমাস ধরে ওমর ফারুক ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সেন্ট্রু ইউনিয়নের ছোট ফেনী নদী তীরবর্তী বিভিন্ন ফসলি জমি ও নদী খননের মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে। এতে করে ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক নষ্ট হওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা জহিরুল হক রতন, তার অনুসারী মনির ও শাহীন মাটি কাটায় বাধা দিলে বাকবিতণ্ডা হয়। এতে ওমর ফারুক ক্ষুব্ধ হয়ে তার অনুসারী মিয়াজীঘাটের ব্যবসায়ী আবু জাফরকে দিয়ে জহিরুল হক রতন, মনির ও শাহীনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। শাহীনের বোন নাজমা আক্তার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ফারুকের কাছে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলার কারণ জানতে চান। ইউপি ভবনের সামনের সড়কে তাকে লাঞ্ছিত করেন ফারুক। এ ঘটনায় নাজমা সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতা জানান, মাটি ব্যবসার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে ওমর ফারুককে অপহরণ করা হতে পারে।