আদালত প্রতিবেদক->>

দাগনভূঞায় একজন ছাত্রকে বলাৎকার (ধর্ষণ) এর দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে মাদ্রাসা শিক্ষক মো. কাউছার (২৩)। রোববার সন্ধ্যায় ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুল ইসলামের আদালতে ওই শিক্ষক জবানবন্দি প্রদান করেন করেন। এর আগে গত শনিবার রাতে ওই মাদ্রাসা শিক্ষক মো. কাউছারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান ইমাম জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর বিকেলে দাগনভূঞা উপজেলার কোরাইশমুন্সী এলাকায় মাদ্রাসা শিক্ষক কাউছার ওই আবাসিক ছাত্রকে (১৫) বলাৎকার করে মাদ্রাসা শিক্ষক মো. কাউছার। পরে ঘটনাটি ওই ছাত্র তার পরিবারকে জানায়। পরিবার ঘটনাটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ কর্তৃপক্ষের কাছে অবহিত করে বিচার দাবি করেন। কিন্তু মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের বিচার বা প্রতিকার না করে কথা উল্টো অপরাধী শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রের মা বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক মো. কাউছার (২৩), অধ্যক্ষ আবদুস ছাত্তার (৪০), সহকারী শিক্ষক জাকিরুল ইসলাম (৩৯) ও আফতাব উদ্দিনকে (৪০) আসামী করা হয়। মামলা দায়েরের পর প্রধান আসামী মো. কাউছার পলাতক থাকায় পুলিশ গত শুক্রবার অধ্যক্ষ আবদুস ছাত্তার, সহকারী শিক্ষক জাকিরুল ইসলাম ও শিক্ষক আফতাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হজাতে প্রেরণ করেন।

ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক মো. মোনায়েম মিয়া জানায়, শনিবার রাতে ওই মামলার প্রধান আসামী মো. কাউছারকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গত রোববার আদালতে তাকে তোলা হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে শিক্ষক মো. কাউছারকে ফেনী জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানায়, এ মামলার চারজন আসামীর সবাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছে।

Sharing is caring!