ফুলগাজী প্রতিনিধি->>

অতিথি পাখির কলকাকলিতে ফুলগাজী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ মুখরিত। প্রতিবছর শীতের মৌসুমে অতিথি পাখির বেশ উপস্থিতি চোখে পড়ে এই কলেজের দিঘি ও আশপাশের এলাকায়। কলেজটি ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের বাশুড়া গ্রামে অবস্থিত।

অতিথি পাখি দেখতে প্রতিদিন এই দিঘির পারে বহু মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। সরকারি কলেজের সামনে দুটি বড় দিঘি রয়েছে। প্রতিটি দিঘির আয়তন প্রায় ৩০ একর করে। একটি দিঘির উত্তর পাড়ে রয়েছে ফুলগাজী সরকারি ডিগ্রি কলেজ। মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কলেজটির অবস্থান। দুই দিঘির মাঝখানে রয়েছে চার শ বছরের পুরোনো দোল মন্দির। শীত মৌসুমে স্থানটি আরও দর্শনীয় হয়ে ওঠে। শেষ বিকেলে পাখিদের বিচরণ দেখতে সেখানে ছুটে যান শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অগ্রহায়ণ থেকে শুরু করে মাঘ মাসের শেষ পর্যন্ত পুরো শীতজুড়ে অতিথি পাখিরা এই দিঘিতে অবস্থান করে। আবার ফাল্গুনের শুরুতে এরা চলে যায়।

অতিথি পাখি দেখতে আসা ফুলগাজী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. নাঈমুল ইসলাম বলেন, ‘বিকেলের মিষ্টি রোদে দিঘির পাড়ে বসে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ, পানি থেকে পাখির আকাশে উড়াল দেওয়ার দৃশ্য খুব চমৎকার লাগে। তার চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় এবং ছবি তোলার মতো পরিবেশ রয়েছে এখানে। দোল মন্দির দেখার মতো একটি জিনিস। এখানে বসার জন্য অনেকগুলো সিড়ি করে দেওয়া হয়েছে সরকারিভাবে। সেগুলোতে বসে আমরা মনোমুগ্ধকর পরিবেশে প্রাকৃতিক দৃশ্য, দোলমন্দির এবং কাছ থেকে পাখির সৌন্দর্য ও ওড়াউড়ি উপভোগ করতে পারি।’

এলাকার মো. শফিকুর রহমান (৭০) নামের এক ব্যক্তি জানান, স্থানটি তিন-চার কারণে সবার কাছে পরিচিত। প্রাচীনকালের দুটি বড় দিঘি, চার শ বছরের পুরোনো দোল মন্দির, শীতকালীন অতিথি পাখি এবং ফুলগাজী সরকারি ডিগ্রি কলেজ। সব মিলিয়ে এটি দেখার মতো একটি স্থান। প্রাকৃতিক পরিবেশ দৃষ্টিনন্দনভাবে সুসজ্জিত।

এখানে ব্রিটিশ আমল থেকেই ফেনী জেলার ভেতরে সর্বশ্রেষ্ঠ মেলা বৈশাখী মেলা হতো মাসের ২ তারিখে। মেলা দেখার জন্য হিন্দু-মুসলিম সবাই বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক সপ্তাহ আগে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি চলে আসত। সেই সময় থেকে অতিথি পাখি এই দিঘিতে বিচরণ করে।

ফুলগাজী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. উল্লাহ ভূঁইয়া জানান, এই স্থানে দোল মন্দির, সরকারি ডিগ্রি কলেজ, শীতকালীন অতিথি পাখি, প্রাচীনকালের দুটি বড় দিঘি দেখতে এখানে আসেন।

ফেনীর সাবেক জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান, মনোজ কুমার রায়, ওয়াহিদুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এখানে এসে স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। বিশেষ করে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা শীতকালে এসে পাখিদের ছবি ওঠান। এখানে কিছু সময় কাটান। চার শ বছরের পুরোনো দোল মন্দিরের ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে ছবি উঠিয়ে সংরক্ষণে রাখেন।

Sharing is caring!