বিশেষ প্রতিবেদক->>

ছাগলনাইয়া ও পরশুরাম উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হারাতে মাঠে মরিয়া হয়ে উঠেছেন দলেরই বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাদের মদদ দিচ্ছে নিজ দলেরই অনেক নেতা, এমন অভিযোগ করছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা।

কয়েকটি ইউপির দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে আছেন দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তরা। অন্যদিকে বিদ্রোহীরা বলছেন নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নেই তাই জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে নির্বাচন উন্মুক্ত করার প্রয়োজন ছিল। তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অনুরোধে তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, ২৮ নভেম্বর ফেনীর এই দুই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। দুই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অপর ৫টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিপরীতে শক্ত প্রার্থী হিসেবে আছেন দলের বিদ্রোহীরা। এ ৫ বিদ্রোহী প্রার্থীকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে দল থেকে।

ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য বহিষ্কার হওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গরীব শাহ হোসেন চৌধুরী বাদশা। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে প্রতাপের সঙ্গে রয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, যেহেতু নির্বাচনে বিএনপি-জামাতসহ বড় কোন দল নেই তাই নির্বাচন উন্মুক্ত করে দেওয়া দরকার ছিল। সুষ্ঠ ভোট হলে জনপ্রিয়তায় তিনিই জিতবেন। কারণ তৃণমূলের নেতাকর্মী তাকেই চেয়েছিল।

অন্যদিকে একই ইউনিয়নের নৌকার মাঝি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান মিনু জানান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করছেন না। বিভিন্ন ওয়ার্ডের ২০ জন সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ৪ জন তার পক্ষে কাজ করছেন। বাকিরা তার বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন।

তিনি আরও জানান, এলাকার এক শিল্পপতি জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য নেতৃত্বে অনেক শিল্পপতি, জেলা ও উপজেলার প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন দলীয় নেতা নৌকার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভোট করছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীকে লাখ লাখ টাকা নির্বাচনী খরচ দিচ্ছেন।

ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী বলেন, কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যেই বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করে আনতে আওয়ামী লীগের সব স্তরের নেতাকর্মী কাজ করে যাবে।

ইউপির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা নৌকার প্রার্থীরা আরও জানান, পুরো দল তাদের পক্ষে কাজ করছে না। দলের অনেক নেতা গোপনে বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করছেন। তাদের বিশ্বাস সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ নৌকাতেই ভোট দেবেন।

পরশুরামের মির্জানগর ইউনিয়নের সদ্য বহিষ্কৃত উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর ভূঞা জানান, আমরা নৌকার বিরুদ্ধে নয় নৌকার মাঝির বিরুদ্ধে। তার দাবি, আওয়ামী লীগের প্রায় সবাই তার সঙ্গে আছে। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন তারা সবাই তাকে সমর্থন করেছেন। নির্বাচনে যদি কোনো ধরনের কারচুপির চেষ্টা করা হয় তাহলে তা রক্তের বিনিময়ে ঠেকানো হবে।

এদিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও লাগাতার ২ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ভুট্টু জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান দলের মধ্যে কিছু অংশ গোপনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।

একই উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল গফুর জয়ের ব্যাপারে শত ভাগ আশাবাদী বলে জানান।

এ ইউনিয়ন বিদ্রোহী প্রার্থী জাকির হোসেন চৌধুরী যিনি পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি।

তিনি জানান, জনপ্রিয়তার দৌড়ে তিনি প্রথম। আওয়ামী লীগের কিছু হাইবিট নেতা তাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করেছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরশুরাম পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সাজেল জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী দলের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেবে তাদের তালিকা জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করে আনতে দলের সবাই ঐকান্তিকভাবে কাজ করবে।

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শহীদ খোন্দকার বলেন, ইতোমধ্যেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কোনো নেতাকর্মীরা যদি তাদের হয়ে কাজ করেন তাদের ব্যাপারেও দল ব্যবস্থা নেবে।

Sharing is caring!