নিজস্ব প্রতিনিধি->>

ফেনীর পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ডে সার্কিট হাউজ থেকে মধুয়াই পোল পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অল্প বৃষ্টিতেই এ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে করে ওই অঞ্চলের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের বেহাল দশার কারণে সম্প্রতি (১৮ অক্টোবর সোমবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে) লুদ্দার পাড় অংশে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান পাশের ধান ক্ষেতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় ড্রাইভারসহ ৪ জন আহত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল ফ্লাইওভার থেকে সার্কিট হাউজ মসজিদ পর্যন্ত সড়কের কিছু অংশে কার্পেটিং ঠিক থাকলেও সার্কিট হাউজ মসজিদের সামনে থেকে দক্ষিণে লুদ্দারপাড় হয়ে পূর্ব বিজয় সিংহ মধুয়াই পোল পর্যন্ত দেড় কিলোমিটারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে খানাখন্দে ভরে গেছে।

এতে করে সড়কে প্রতিদিন গাড়ি চলাচল এবং জন সাধারণের চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ৩শ’ সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ১শ’ মটর চালিত রিকশা চলাচল করে। এই রাস্তা দিয়ে কয়েক গ্রামের মানুষ মহিপালে আসেন। আবার মহিপাল হয়ে সুন্দরপুর,আফতাব বিবির হাট,কুঠিরহাট, তাকিয়া বাজার, সোনাগাজী ও দাগনভূঁঞা উপজেলায় যাওয়ার বেশ কিছু শাখা রাস্তা রয়েছে। প্রতিদিন ৫০ হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক রফিক মিয়া ও মিলন জানান, সড়ক দিয়ে প্রতিদিন তাদেরকে যাত্রী নিয়ে মহিপালে আসতে হয় এবং মহিপাল থেকে যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। কিন্তু সড়কে এসব বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের ভেতর গাড়ি আটকে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। মাসে তাদের গাড়ি দুই থেকে তিনবার মেরামত করতে হয়।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মজিবুর রহমান ও আবদুর রহিম জানান, এই সড়ক দিয়ে সীমিত পরিসরে যাত্রী নিয়ে কোনো রকম দুই চারবার যাতায়াত করতে হয়। গর্তে পড়ে গাড়ির কলকব্জা ভেঙে যায়। নাট ভল্টু ও স্টাডিং বিকল হয়ে যায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা জানান, এ সড়কটি পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে সার্কিট হাউজ বাংলো পর্যন্ত মেরামত করা হয় প্রতিবছর। কিন্ত মসজিদের সামনে থেকে দক্ষিণে এই সড়কটির বাকি দেড় কিলোমিটার অংশে পূর্ব বিজয় সিংহ মধুয়াই পোল পর্যন্ত বিগত ৮-৯ বছরেও মেরামত করা হয়নি। এমনিতে সড়কের বেহাল অবস্থা, আরেকদিকে বৃষ্টিতে সড়কে গর্তে পানি জমে কর্দমাযুক্ত হওয়ার কারণে গাড়ি চলাচল ও জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ক্ষত বিক্ষত সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে সড়কটি তাদের আন্ডারে নেই বলে তারা জানান।

ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী জানান, সড়কটি ফেনী পৌরসভার নিয়ন্ত্রনে নেই। এ সড়কের কাজ এক এক সময় এক এক সংস্থা করে থাকে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফেনী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, গত কিছু দিন আগে ফেনী সার্কিট হাউজ সড়কটি পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে সার্কিট হাউজ বাংলো হয়ে নোয়াখালী সড়ক পর্যন্ত এই অংশটি সড়ক বিভাগের অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হবে।

Sharing is caring!