ঢাকা অফিস->>

ফেনীর কৃতি সন্তান একুশে পদকপ্রাপ্ত গুনী অভিনেতা, বরেণ্য নাট্যকার, নির্দেশক ও শিক্ষক ড. ইনামুল হক এর মরদেহ মঙ্গলবার রাজধানীর বনানী বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। দাফনের আগে মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেওয়া হবে ড. ইনামুল হকের মরদেহ। এরপর তাকে নেয়া হবে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। সেখানেও তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে সোমবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ড. ইনামুল হকের প্রথম জানাজা বেইলি রোডে তার নিজ বাসায় সম্পন্ন হয়েছে। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় শিল্পকলা একাডেমিতে।

ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে নিজ বাসায় মৃত্যু বরণ করেন ড. ইনামুল হক। দুপুরের খাবারের পর বিশ্রামের জন্য চেয়ারে হেলান দিয়ে বসেন ড. ইনামুল হক। কিন্তু হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাকে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।

ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের বাসিন্দা ড. ইনামুল হক মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই মেয়ে, দুই জামাতা, নাতী-নাতনী এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনীর সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইনামুল হক। তার বাবা ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুন। ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে অনার্স ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি লাভ করেন। ১৯৭০ সালের ১৪ ডিসেম্বর ডা. ইনামুল হক ও লাকী ইনামের বিয়ে হয়।

১৯৬৫ সালে বুয়েটে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সময়ে দীর্ঘ ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. ইনামুল হকে শুরুটা মঞ্চ থেকে। নটর ডেম কলেজে পড়াশুনা কালীন সময়ে প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সালে বুয়েট ক্যাম্পাসেই ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’র যাত্রা শুরু হয়, এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াসে নাটকে অংশগ্রহণ করেন ইনামুল হক। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাকে করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে পথনাটক করেন।

১৯৯৫ সালের তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন নামে আরেকটি নাট্যদল। ২০০০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন ইন্সটিটিউট অব ড্রামা’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান। এর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। লিখেছেনও বিস্তর। মঞ্চ ও টেলিভিশনের নাটক। লিখেছেন সাহিত্যও।

‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’, ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’সহ আরো বহু নাটকে অভিনয় করেন স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো, ‘নির্জন সৈকতে’, ‘গৃহবাসী’, ‘মুক্তিযুদ্ধ নাটকসমগ্র’, ‘মহাকালের ঘোর সওয়ার’, ‘বাংলা আমার বাংলা’ ইত্যাদি।

ড. ইনামুল হক ২০১২ সালে একুশে পদক এবং ২০১৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।

ড. ইনামুল হকের দাম্পত্য সঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক আর প্রৈতি হক। হৃদি হকের স্বামী অভিনেতা লিটু আনাম। আর প্রৈতি হকের স্বামী অভিনেতা সাজু খাদেম।

Sharing is caring!