ফুলগাজী প্রতিনিধি->>

ফুলগাজীতে মো. রিপন মিয়া (৪০) নামে মানব পাচার চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বিজিবি সদস্যরা। তিনি ফুলগাজী উপজেলার আমজাদ হাট ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন হাড়ি পুস্করনী গ্রামের মো. ইউনুছ মিয়ার ছেলে। শুক্রবার তাকে ফুলগাজী থানা পুলিশের মাধ্যমে ফেনীর আদালতে পাঠানো হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে নিজ গ্রাম হাড়ি পুস্করনীর ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন একটি বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে ওই বাড়ীতে পালিয়ে ছিলেন। একই মামলার অপর দুই আসামী এখনো পলাতক রয়েছেন। বিজিবি ও পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য খুুঁজছে।

ফুলগাজী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আকতার হোসেন জানান, আসামী রিপন মিয়াকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুল হাসান শুনানী শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, একটি মানব পাচারকারী চক্র ওই এলাকায় দীর্ঘ দিন থেকে একই কায়দায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করে থাকেন।

বিজিবি জানায়, এর আগে গত বুধবার দুপুরে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদ হাট ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন হাড়ি পুস্করনী গ্রামের জনৈক আবিদ মিয়ার আবাদী টিলার ওপর থেকে ভারতে পাচারের জন্য জড়ো করে রাখা এক শিশু ও চার নারীকে উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা। উদ্ধার হওয়া চার নারী হলেন নড়াইলের মির্জাপুর, জাদবপুর ও কালিয়া এলাকার বাসিন্দা মুসলিমা খাতুন (৪০), শাসছুন্নাহার (৩৫), রেবেকা বেগম (৪৪), মোছা. আলপনা (৩০) ও আলপনার ছেলে মো. বায়েজিদ (৫)।

এ ঘটনায় ফেনীর ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন ফুলগাজীর উপজেলার তারাকুচা সীমান্ত চৌকির (বিওপি) কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. কামাল হোসেন বাদী হয়ে ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৭-৮ ধারায় তিন জনকে আসামী করে গত বুধবার রাতে ফুলগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে মো. সোহাগ মিয়া (৪৫), মো. রিপন মিয়া (৪০) ও মো.ছলু মিয়ার (৪০) নাম উল্লেখ ও অপর ২-৩ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়। তখন তারা পলাতক ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চার নারীকে অসহায়ত্ব ও দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে ফুসলিয়ে ভারতে ভালো চাকুরী পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে পাচার করা হচ্ছিল। এটা ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৭ ও ৮ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এদিকে উদ্ধার হওয়া চার নারীসহ শিশুটিকে বৃহস্পতিবার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ধ্রুব জ্যোতি পালের আদালতে হাজির করা হয়। চার নারী আদালতে ১৬৪ ধারায় ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। শুধু শিশু বায়েজিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি।

Sharing is caring!