শহর প্রতিনিধি->>
ফেনীতে স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার পমির দায়ের করা মামলায় স্বামী হারুন-অর-রশিদকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দাগনভূঞা পৌর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় ভুক্তভোগী ওই নারী ফেনী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী নারী ও মামলার বিবরণে জানা যায়, পরশুরাম বাক মারা পাটোয়ারি বাড়ি আবদুল গোফরান এর ছেলে হারুন-অর-রশিদের সাথে ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের কাজী বাড়ির কাজী নজরুল ইসলাম এর মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার পমির সাথে ২০০৮ সালের ২৩ জুন সামাজিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকে দুজনে দাগনভূঞা বসবাস করছেন। একই সাথে বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান আলাদা চাকরি করে আসছেন তারা। পরবর্তীতে স্বামী হারুন-অর-রশিদ বিভিন্ন সময় হাওলাতের নাম করে তার শ্বশুর পক্ষ থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়।  ২০১৬ সালের ১৫ জানুয়ারি শ্বশুর পক্ষ থেকে ৬ শতক জমি দাবি করে। এবং তা দিতে অপারগতা প্রকাশ  করায় স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার পমিকে মারধোর করে। কিন্তু স্ত্রী তার একটি সন্তানের কথা চিন্তা করে ৬ শতক সম্পত্তি তার স্বামীর নামে হেবা দলিল করে দেয়। এতে করে ও লোভী স্বামী ক্ষান্ত হয়নি।  স্ত্রী পমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে তার বেতনের চার লক্ষ টাকা বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করে আদায় করে স্বামী হারুন। আর এতে সহযোগিতা করেন তার ননদের জামাই ও মামলার ৩ নং আসামী মিজানুর রহমান। এরপর থেকে তাদের পারিবারিক কলহ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে গত  বছরের ১ মে মামলার ২ নং আসামী চাঁনধন আক্তার মমতা ও ৩ নং আসামী মিজানুর রহমান এর পরোচনায় স্বামী হারুনুর রশিদ স্ত্রী পমিকে মারধর করে এবং গলা টিপে হত্যা চেষ্টা করে। এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর নগদ দুই লক্ষ টাকার জন্য তার  শ্বশুর বাড়িতে হানা দেয় স্বামী হারুন অর রশিদ। এসময় শ্বশুরপক্ষ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে হারুন তার স্ত্রীকে তালাক দিবে মর্মে হুমকি দেয় এবং মারধর করে। পরে স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার পপি গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করে। পরে গত বৃহস্পতিবার দাগনভূঞা পৌর এলাকা থেকে স্বামী হারুন-উর-রশিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ফেনী মডেল থানার এসআই ময়নাল ইসলাম জানান, নির্যাতিত নারীর দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি হারুন-অর-রশিদকে দাগনভূঞা থেকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাছাড়া মামলার অপর দুই আসামি কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Sharing is caring!