বিশেষ প্রতিবেদক->>

ফেনীতে গরু ব্যবসায়ীকে হত্যার দুই মাস অতিবাহিত হলেও ধরা পড়েনি মামলার প্রধান আসামী পৌরসভার ৬নং ওর্য়াড কাউন্সিলর আবুল কালাম। গত ১৫ জুলাই মধ্যরাতে ফেনী শহরের সুলতানপুর সাহেব বাড়ি এলাকায় গরু ব্যবসায়ী শাহজালালকে গুলি করে হত্যার পর থেকে পলাতক রয়েছে কালাম। ওই মামলার ২ নং আসামী কালামের সহযোগী নাঈমুল হাসান ইতোমধ্যে হত্যাকান্ডের বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

জানা যায়, বিনা প্রতিদন্ধিতায় নির্বাচিত পৌরসভার ৬নং ওর্য়াড কাউন্সিলর আবুল কালামের জ্বালায় অতিষ্ট ছিলো এলাকাবাসী। স্ব শিক্ষিত একজন টপ টেরর আবুল কালাম ছিলো এলাকার ত্রাস । তার বিরুদ্ধে গেলে চালানো হতো নির্মম নির্যাতন, না হয় ঘটানো হতো হত্যার মতো ঘটনা। কালাম একসময় বিএনপির রাজনীতি করলেও ক্ষমতার পালাক্রমে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হাতে ফুল দিয়ে এলাকায় নতুন দূর্গ গড়ে তুলেন । গত ১৫ জুলাই গরু ব্যবসায়ী শাহ জালালকে হত্যার পর গা ঢাকা দেয় কালাম।

গরু ব্যবসায়ী শাহজালালকে গুলি করে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে সামাজিক মাধ্যমসহ সবত্র ফুসে উঠে স্থানীয়রা। তার নির্যাতনের বিষয় বর্ণনা দিয়ে মুখ খুলেছেন অনেকে। তারা জানায়, ১৯৯৮ সালে ছাত্রলীগ নেতা নজরুলকে গুমের মাধ্যমে কালামের অপকর্মের যাত্রা শুরু। গুমের পর পরিবারের স্বজনরা আজো খুজে পাওয়া যায়নি নজরুলের সন্ধান। ১৯৯৯ এর ডিসেম্বরে পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন রতনকে যেখানে হত্যা করা হয়েছিলো সেখানেই গরু ব্যবসায়ী শাহজালালকে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপির সাবেক সাংসদ ভিপি জয়নালের দেহরক্ষী হিসেবে ২০০০ সালে বিপুল অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয় আবুল কালাম।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে আ.লীগে যোগদান করেন কালাম। দল পরিবর্তনের পরপরই সে বিএনপি নেতা সাবেক সাংসদ ভিপি জয়নালের বাড়ীতে গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা চালায়। এরই মাধ্যমে যুবলীগে বিশ্বস্তর তালিকায় নিজের নাম লিখায় কালাম। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি করে বেড়ালেও সবমসময় তার ওপর ছিল ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ স্থানীয়দের আশীর্বাদ’। কালাম ৫ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা হলেও ক্ষমতার দাপটে ভোটার স্থানান্তর করে ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হন। এরপরই তিনি ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বচিত হন। চলতি বছর পৌর নির্বাচনে বিনাপ্রতিদন্ধিতায় ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন কালাম। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, ইয়াবা, মাদকসহ অবৈধ কারবার নিয়ন্ত্রন করার অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

গরু ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী ও শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে কালামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

গরু ব্যবসায়ী শাহজালাল হত্যা মামলার প্রধান আসামী হলেও প্রভাবশালী এ নেতাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। তবে মামলার ২ নং আসামী কালামের সহযোগী নাঈমুল হাসান হত্যাকান্ডের বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। মামলার অপর আসামী কালামের সহযোগী রাজুকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জসিম উদ্দিন জানান, জবানবন্দিতে নাঈমুলের ভাষ্যমতে ঘটনার দিন আবুল কালাম তাকে অফিসে ডেকে নেয়। ভাতিজা রাজুকে বাড়ী পাঠিয়ে অস্ত্র আনায়। এরপর কালাম একটি মোটর সাইকেলে এবং রাজু ও নাঈমুল আরেকটি মোটর সাইকেলে ঘটনাস্থলে যায়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে গরু ব্যবসায়ী শাহজালালকে গুলি করে আবুল কালাম। তখন সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আর অন্যরা ভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে।এসময় গুলিতে প্রাণ হারানো শাহজালালকে মোটর সাইকেলে তুলে পার্শ্ববর্তি নাগপুকুরে ফেলে কালামসহ তারা সকলে চলে যায়। আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে ফেনী কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে নাঈমুল হাসান কারাগারে রয়েছেন।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জানান, প্রধান আসামী কালামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ইতোমধ্যে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে।

Sharing is caring!