রয়টার্স->>

দুই ডোজ কোভিড টিকা নিয়েও যে মানুষ করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরন থেকে সুরক্ষিত নয় এমন প্রমাণ দিন দিনই মূর্ত হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদি করোনাভাইরাসের তুলনায় এর ডেল্টা ধরন আরও বেশি হারে দুই ডোজ টিকা নেওয়া মানুষদেরকে আক্রান্ত করতে সক্ষম- এমন প্রমাণ উত্তরোত্তরই মিলছে এবং এই মানুষেরা এমনকী এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন বলেও উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের ধরনের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে কাজ করা মাইক্রোবায়োলজিস্ট শ্যারন পিকক বলেন, “এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটাই হচ্ছে ডেল্টা।” করোনাভাইরাসের এই ধরনকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ‘সবল এবং অতিদ্রুত সংক্রামক’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

মিউটেশনের মধ্য দিয়ে ভাইরাস অনবরতই রূপ বদলায় এবং নতুন নতুন ধরনের উদ্ভব ঘটে। কখনও কখনও এই ধরনগুলো মূল ভাইরাসের চেয়েও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।

১০ জন শীর্ষ কোভিড বিশেষজ্ঞ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, করোনাভাইরাসের যে কোনও ধরনে গুরুতর অসুস্থতা এবং হাসপাতালে যাওয়া থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে টিকা অনেকখানি কাজে দেয় এবং এখনও টিকা না নেওয়া মানুষেরা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন।

কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, টিকা পুরোপুরি নেওয়ার পরও ডেল্টা ধরনে আক্রান্ত হওয়া এবং হাসপাতালে যাওয়া মানুষের সংখ্যা নেহাৎ কম নয়।

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড গত শুক্রবার এক পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছে, যুক্তরাজ্যে ডেল্টা ধরনে আক্রান্ত মোট ৩ হাজার ৬৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ টিকা না নেওয়া মানুষ; আর ২২ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন।

সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়েছে ডেল্টা ধরন। গত শুক্রবার সেখানকার সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, সেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্তদের তিন-চতুর্থাংশই টিকা নেওয়া মানুষ। যদিও তাদের কেউই গুরুতর অসুস্থ হননি।

ওদিকে, ইসরায়েলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, সম্প্রতি কোভিড নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের ৬০ শতাংশই টিকা নেওয়া মানুষজন। তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ৬০ বছর কিংবা তার বেশি এবং তারা প্রায়ই স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেছেন।

করোনাভাইরাসে যে কোনও দেশের চেয়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ এবং মৃত্যু দেখা দেশ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ভাইরাস সংক্রমিতদের ৮৩ শতাংশই ডেল্টা আক্রান্ত।

ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের হামবোল্ড কাউন্টিতে ডেল্টা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে এবং পুরোপুরি টিকা নেওয়াদের মধ্যেও তা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে বলে দু’দিন আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন সেখানকার এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

সান ডিয়াগোর ‘লা জোলা ইন্সটিটিউট ফর ইমিউনোলেজি’র এক ভাইরাস বিশেষজ্ঞের মতে, ডেল্টা ধরন যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত আলফা ধরনের চেয়েও ৫০ শতাংশ বেশি সংক্রামক।

ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথ এর পরিচালক নাদাভ বলেন, “আমাদের সব সমস্যার জাদুকরী সমাধান হয়ে যাবে বলে ভ্রান্তি সব সময়ই আছে। করোনাভাইরাস আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে।”

চীনের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ডেল্টা ধরনে আক্রান্তদের নাকে করোনাভাইরাসের মূল ধরনের চেয়ে ১ হাজার গুণ বেশি ভাইরাস থাকে।

যুক্তরাজ্যের মাইক্রোবায়োলজিস্ট শ্যারন পিকক বলেন, “আক্রান্তরা আদতেই বেশি ভাইরাস ছড়াতে পারে এবং এ কারণেই এটি বেশি সংক্রামক।” ডেল্টা সংক্রমণ নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে বলেও জানান তিনি।

Sharing is caring!