বিশেষ প্রতিবেদক->>

ফেনীতে সাম্প্রতিক সময়ে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ হার বেড়ে যাওয়ায় দুই সপ্তাহের জন্য সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সবধরনের জনসমাগম বন্ধ ঘোষণা করেছিলো জেলা প্রশাসন। করোনা মহামারি ঠেকাতে সভা সমাবেশ এড়িয়ে চলার জন্য সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও জেলার সোনাগাজী ও দাগনভূইয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, রোববার বিকেলে দাগনভূইয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে দুপুরে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলার শতাধিক নেতাদের জন্য ফেনী সার্কিট হাউজে মধ্যান্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। এর আগে শনিবার সন্ধায় সোনাগাজী উপজেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন সকালে জাতীয় পার্টির যুবসংগঠন জাতীয় যুব সংহতি ফেনী জেলা শাখার উদ্যেগে কেক কেটে ৩৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়। উল্লেখিত অনুষ্ঠান সমূহে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী-৩ আসনের সাংসদ ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

উপজেলা সম্মেলন ও দলীয় কর্মসূচীগুলোতে জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা কমিটির সদস্য ও উপজেলার বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলন স্থল ঘুরে দেখা যায়, মঞ্চে অতিথিরা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখলেও মঞ্চের সামনে নেতা-কর্মীদের জন্য রাখা চেয়ারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়নি কিংবা জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানোর ব্যবস্থা ছিল না। মঞ্চের প্রথম সারিতে কয়েকজন নেতাদের মুখে মাস্ক থাকলেও পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা নেতা-কর্মীদের অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। অনেকের মাস্ক ছিল মুখের নিচের থুতনিতে। নেতা-কর্মীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলেননি। করোনা থেকে সুরক্ষায় তাদের মধ্যে কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। ফেনীতে জাতীয় পার্টির জনসমাগমে অংশগ্রহণকারীদেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

এদিকে রোববার সন্ধায় দাগনভূইয়া সিন্দুরপুর রগুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শটপিস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী-৩ আসনের সাংসদ ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়।

এ বিষয়ে সাংসদ লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সম্মেলনটি পূর্ব নির্ধিারিত ছিলো। সম্মেলন ও অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আমরা জেলা প্রশাসক থেকে মৌখিক অনুমোদন নিয়েছি। তিনি করোনা সচেতনতায় কয়েকটি শর্তে অনুমতি দেন। আমরাও অনুষ্ঠান সীমিত আকারে করেছি।

এ বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জানের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করলে ও ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তিনি কোন উত্তর দেন নি।

প্রসঙ্গত, ফেনীতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার আংকাজনক হারে বৃদ্ধির কারণে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য সব ধরনের জনসমাগম ও জনসমাগমস্থল বন্ধ ঘোষণা করেছিলো ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. মঞ্জুরুল আহসান। এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছিলেন।

Sharing is caring!