শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীর উজ্জল রবি আধ্যাত্মিক সাধক, শাহ সৈয়দ আমীর উদ্দিন ওরফে পাগলা মিয়া (রহ.) মাজার প্রাঙ্গনে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী বাৎসরিক ওরস। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হওয়া ওরস মোবারকের রজনীতে কোথাও পবিত্র কোরআন তেলওয়াত কারিদের সুমধুর সুর, কোথাও জেকের আজকার কারীদের উচ্চ কলরোল, আবার কোথাও নবীজির শানে মিলাদ শরীফ এর শব্দে মাজার প্রাঙ্গণ ভোরে উঠবে। ভক্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে তবারক।

প্রতি বছর ফাগুন মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার দিবাগত-রাত থেকে শুরু হওয়া ওরছ মোবারকে জাতিবর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক সম্প্রদায়েরই বিরাট সমাগম হয়ে থাকে। মাহফিল উপলক্ষে তাকিয়া রোডের মাজার সংলগ্ন মসজিদ, মিনার ও খাস দরগাহ শরীফ শত শত ফুল ও উজ্জ্বল আলোকে সুশোজ্জিত করা হবে। দূর দূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের যোগদানে ওরস মোবারক শেষ হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুমার নামাজের পর।

শাহ সৈয়দ আমির উদ্দিন সাহেবের আওলাদ সৈয়দা স্বর্ণা জানান, ‘ফেনীর ইতিহাসের সাথে শাহ সৈয়দ আমির উদ্দিন সাহেবের নাম ওতপ্রতভাবে জড়িয়ে আছে। সৈয়দ বশির সাহেবের ঔরসে সৈয়দা মায়মুনা খাতুন বেগমের গর্ভে বাংলা ১২৩০ সনের আষাঢ় মাসে সৈয়দ আমির উদ্দিন ওরফে পাগলা মিঞা সাহেব ফেনী জেলার খইয়ারা (ফাজিলপুর) নামক স্থানে জন্ম গ্রহণ করেন। পাগলা মিয়া ছিলেন তাঁর পিতা মাতার একমাত্র সন্তান। এই মহান সাধক ১২৯৩ বঙ্গাব্দের ১৩ শ্রাবণ বুধবার, ফেনীর তাকিয়া বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। ওফাতের পরে তাঁকে সেই স্থানেই সমাহিত করা হয়। তাঁর এই সমাধী স্থান ঘিরেই তাঁর মাজার শরীফ ও মসজিদ বিদ্যমান রয়েছে।’

সৈয়দা স্বর্ণা আরো জানান, ‘আমাদের শেষ পয়গম্বর হযরত রাছুল এ মকবুল (দাঃ) মানবমন্ডলীকে সুপথগামী করার নিমিত্তে বিভিন্ন স্থানে অনেক অলি, আবদাল, আওলীয়া, গাওছ, কুতুব ও শহর কুতুব প্রেরণ করেণ। উক্ত অলি শহর কুতুব দের মধ্যে হযরত শাহ সৈয়দ আমির উদ্দিন ওরফে পাগলা মিয়া মরহুম সাহেব অন্যতম। তিনি তাঁর আসল নামের আড়ালে ‘পাগলা মিয়া’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি একাধারে ছিলেন পাগল, আধ্যাত্মিক সাধক ও সকল ধর্মের সকল জাতের ঊর্ধ্বে এক মহা মানবতার প্রতীক। এ মহান পাগল সাধকের আদি নিবাস ছিলো ইরাকের বাগদাদ।’

সৈয়দা স্বর্ণা আরো জানান, ‘পরম দয়ালু আল্লাহর ইচ্ছায় সৈয়দ আমির উদ্দিন সাহেবের অলৌকিক গুনের কারনে আজ-অব্দি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তার ভক্তরা তাকে সম্মান জানাতে ফেনীর তাকিয়া বাড়িতে অবস্থিত তাহার দরগায় আসেন। আওলিয়া কুল শ্রেষ্ঠ মরহুম শাহ সৈয়দ আমির উদ্দিন ওরফে পাগলা মিঞা সাহেবের (আত্মার কল্যাণ কল্পে) রূহ পাকের ছাওয়াব রেছানীর উদ্দেশ্যে বাৎসরিক যে অনুষ্ঠান তার নাম ওরছ মোবারক।’

সৈয়দা স্বর্ণা আরো জানান, ‘প্রতি বছর ফাগুন মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার দিবাগত-রাত হতে এই উৎসব শুরু হয়। সমস্ত রজনী কোথাও পবিত্র কোরআন তেলওয়াত কারিদের সুমধুর সুর, কোথাও জেকের আজকার কারীদের উচ্চ কলরোল,আবার কোথাও নবীজির শানে মিলাদ শরীফ এর শব্দে মাজার প্রাঙ্গণ ভোরে উঠে।’

সৈয়দা স্বর্ণা আরো জানান, ওরস মোবারকে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ভক্ত বৃন্দারা গরু,খাসি, চাউল ইত্যাদি রশদ সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে মাজারে আসেন। এ সকল রশদ সামগ্রী দিয়ে তোবারক রান্না করা হয় ও তা ভক্ত বৃন্দের মধ্যে বন্টন করা হয়। ওরস মোবারকে জাতিবর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক সম্প্রদায়েরই বিরাট সমাগম হয়ে থাকে। বহু দূর দূরান্ত হতে তার ভক্তরা এতে যোগদান করেন। ওরস মোবারকের সময় মসজিদ, মিনার ও খাস দরগাহ শরীফ শত শত ফুল ও উজ্জ্বল আলোকে সুশোজ্জিত করা হয়।

Sharing is caring!