ফুলগাজী প্রতিনিধি->>

ফুলগাজীতে ‘প্রকল্পের অর্থ আত্নসাৎ’ এর অভিযোগে অভিযুক্ত সেই কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামকে কক্সবাজারে বদলী করা হয়েছে। বুধবার এক আদেশে অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তাকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় বদলী করা হয়েছে।

কৃষিসম্প্রসার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ স্বাক্ষরিত পত্রে (২২ ডিসেম্বর) জানানো হয়, প্রশাসনিক কারণে ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় বদলী করা হয়েছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে আদেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ৩১ ডিসেম্বর থেকে তাতক্ষনিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবে।

সম্প্রতি জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। প্রতিবেদনে ‘নাম একজনের স্বাক্ষর আরেক জনের, কাগজ-কলমে নাম-ঠিকানা আর ছবি দিয়ে বরাদ্দকৃত টাকাসহ সরকারের বিভিন্ন কৃষিপণ্য কৃষকের নামে তুলে নেওয়া হয়েছে’ বলে অভিযোগ উঠে। এমন অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনার তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়। কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামকে ‍ফুলগাজী থেকে কক্সবাজারের মহেশখালী বদলীর আদেশ দেয়া হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তর ফেনীর কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেন।

প্রসঙ্গত, অভিযোগকৃত ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম ফুলগাজী উপজেলার কৃষি উন্নয়ন ও লেবুজাতীয় ফল চাষের দুটি বিশেষ প্রকল্পে নয়-ছয় করে অর্থ আত্নসাৎ করেছেন। ওই প্রকল্পের অনুকূলে চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৪৬০ জন সুবিধাভোগী কৃষকদের জন্য বরাদ্দ প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকা এবং ৯০টি লেবুজাতীয় ফল বাগানের জন্য সাইট্রাস প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের ৪৬০ জন কৃষককে প্রায় ৬ লাখ টাকা পরিমাণ বিভিন্ন প্রকারের সার ও বীজ দেয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি। যারা সার পেয়েছেন এমন অনেক কৃষক জানিয়েছিলেন, ‘তাদেরকে প্রদানকৃত সারের মান এত নিম্ন যে তা পাওয়া আর না পাওয়া একই কথা। সারগুলো ব্যবহার না করে ফেলে দিতে হয়েছে।’

অপরদিকে, সাইট্রাস প্রকল্পের সুবিধাভোগী ৯০ জন কৃষককে প্রায় সোয়া ৫ লাখ টাকার চুন, সার আর পরিবহন বিলসহ সরঞ্জামাদি দেওয়াই হয়নি। কাগজে-কলমে সুবিধা পাওয়া কয়েকজন জানিয়েছিলেন, ‘প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকায় তাদের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হলেও ছবি ও স্বাক্ষর তাদের ছিলো না।’ কয়েকজন কৃষক প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকায় নিজেদের স্বাক্ষর দেখে জানিয়েছিলেন, ‘তাদের স্বাক্ষর নকল/জাল। কাগজপত্রে যে স্বাক্ষর ছিলো তারা তত সুন্দর করে লিখতে পারেন না।’

এদিকে আগামী ২৫ ডিসেম্বর কৃষিসম্প্রসার অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ফেনী আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাদের কর্ম তৎপরতা বেড়ে গেছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

Sharing is caring!