নািজস্ব প্রতিনিবেদক->>

ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিম্মমানের বীজ ও উপকরণ সরবরাহ এবং কৃষকের নামে ভূয়া স্বাক্ষরে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার না করলেও কৃষকরা এখনও বিল করেননি বলে জানান।

এদিকে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তোফায়েল আহম্মদ চৌধুরী।

উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, ফুলগাজী উপজেলায় কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের দুটি বিশেষ প্রকল্প চালু রয়েছে। এই দুই প্রকল্পের অনুকূলে চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) ৪৬০ জন সুবিধাভোগী কৃষকদের জন্য প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকা এবং ৯০টি লেবুজাতীয় ফল বাগানের জন্য সাইট্রাস প্রকল্পে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের ৪৬০ জন কৃষককে প্রায় ছয় লাখ টাকার সমপরিমাণ বিভিন্ন প্রকারের সার ও বীজ দেওয়ার কথা ছিল।

মাল্টা চাষি নাজিম উদ্দিন বলেন, “মাল্টা গাছ প্রতি ৬০ টাকা বরাদ্ধ হলেও কৃষকদের ১০-১৫ টাকার নিম্নমানের চারা সরবারহ করা হয়েছে। এর বেশিরভাগ গাছ মরে যাচ্ছে; যেগুলো বড় হচ্ছে সেগুলোরও ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা।”

এরশাদ উল্যাহ নামে এক সুবিধাভোগী কৃষক বলেন, “সরবারহকৃত সারের মান এত নিম্ন যে তা পাওয়া আর না পাওয়া একই কথা। এগুলো ব্যবহার না করে ফেলে দিতে হচ্ছে।”

কৃষক আবুল কালাম বলেন, “সাইট্রাস প্রকল্পের সুবিধাভোগী ৯০ জন কৃষককে প্রায় সোয়া ৫ লাখ টাকার চুন, সার আর পরিবহন বিলসহ সরঞ্জামাদি দেওয়াই হয়নি।”

কাগজে-কলমে সুবিধা পাওয়া মনসুর আহমেদ নামে এক কৃষক বলেছেন, প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকায় তার ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হলেও ছবি ও স্বাক্ষর তার নয়।

আরেকজন কৃষক প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকায় নিজের স্বাক্ষর দেখে জানালেন, তার স্বাক্ষরটি জাল। কারণ, যত সুন্দর করে সেখানে স্বাক্ষর দেওয়া আছে তত সুন্দর করে তিনি লিখতে পারেন না।

ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে সব অভিযোগের দায় তার অধীনস্থদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “সবাই বলছেন টাকা পাননি। ঠিক আছে তারা টাকা পাননি। আমিও তো বলছি দেইনি। কারণ, এখনও তো তারা বিলই করেননি। যে স্বাক্ষর রয়েছে তা আছেই। এখনও আরও কয়েকটি উপকরণ যোগ করে বিল করে একসাথে তোলা হবে।”

ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তোফায়েল আহম্মদ চৌধুরী বলেন, “এসব অভিযোগ আগে কখনও আমাদের নজরে আসেনি। বিষয়টি মাত্র অবগত হলাম। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Sharing is caring!