সোনাগাজী প্রতিনিধি->>

ধর্ষনের আলমত না মেলায় আদালতে জামিন পেলেন সোনাগজীর আওয়ামীলীগ নেতা তমিজ উদ্দিন নয়ন। রোববার ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. জেবুন্নেছা বিশ হাজার টাকার মুচলেকায় অভিযুক্ত তমিজ উদ্দিন নয়নের জামিন প্রদান করেন। এরআগে নিম্ম আদালতে জামিন না পেয়ে দায়রা জজ আদালতে জামিন চেয়ে মিস কেইস করেন আওয়ামীলীগ নেতা নয়নের আইনজীবী শাহাদাত আল সাইদ।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহমদ বলেন, আদালতে আসামী নয়নের জামিনের বিরোধীতা করেছি। তবে ধর্ষনের আলমত না মেলায় বিচারক আমার আবেদন নাকচ করে অভিযুক্তকে জামিন প্রদান করেন।

আইনজীবী শাহাদাত আল সাইদ বলেন, ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষনের আলামত না মেলায় ও মামলার এজহারে গুরুতর অসঙ্গতির কারণ দেখিয়ে আমার মক্কেলের পক্ষে আমি জামিন আবেদন করলে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন প্রদান করেন।

তিনি আরো বলেন, ভিকটিমের বাবার কাছে পাওনা টাকা চাওয়ায় সে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে ধর্ষনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষা করালে ধর্ষনের আলমত মেলেনি এমনকি শারীরিকভাবে আহত হওয়ার কোন প্রমানও পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাগাজী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নওশের কোরেশী জানায়, ডাক্তারী পরীক্ষায় ধর্ষনের প্রমান না পাওয়ায় আসামীর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সিআিইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপক্ষে মামলার বিষয়ে পরবর্তী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ অক্টোবর সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষনের অভিযোগ এনে স্কুল শিক্ষার্থীর মা রিনা বেগম বাদি হয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি তমিজ উদ্দিন নয়নের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই দিন আওয়ামীলীগ নেতা নয়নকে গ্রেপ্তার করে আদালতের আদেশে সাত দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে ধর্ষনের বিষয়ে কোন তথ্য উদঘাটন করতে না পেরে পুলিশ নয়নকে ফেনী কারাগারে প্রেরণ করেন। গ্রেপ্তারের পর আওয়ামীলীগ নেতার পরিবার পাওনা টাকা চাওয়ায় তাকে ধর্ষন মামলায় ফাসানোর অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তির দাবী করেছিলো।

Sharing is caring!