নিজস্ব প্রতিনিধি->>

ফেনীতে করোনার ৯ মাসে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে ১৭ লাখ ২১ হাজার ৫’শ ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে প্রশাসন। ৯ মাসে ৩৬৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮, ২৬৯ সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর কতিপয় ধারায় ১ হাজার ৩শ’ ৯৮টি মামলায় ২ জনকে কারাদণ্ড, ১ হাজার ৩শ’ ৯৮ জনকে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দেশে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রর্দুভাব শুরুর পর থেকে মার্চ মাসে ৩০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১২০টি মামলার বিপরীতে ৩ লাখ ৭৩ হাজার ১শ’ ৫০ টাকা, এপ্রিল মাসে ১৪৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩৮৮টি মামলার বিপরীতে ৩ লাখ ১৩ হাজার ২শ’ টাকা, মে মাসে ৫৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২২৬টি মামলার বিপরীতে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা, জুন মাসে ৩০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১৯৫টি মামলার বিপরীতে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, জুলাই মাসে ২৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১১৩টি মামলার বিপরীতে ৯৬ হাজার ৮শ’ ৫০ টাকা, আগস্ট মাসে ৩৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২১৮টি মামলার বিপরীতে ২ লাখ ৭২ হাজার ৪শ’ ৫০ টাকা জরিমানাসহ ২ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪৪টি মামলার বিপরীতে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩শ’ টাকা, অক্টোবর মাসে ৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১২টি মামলার বিপরীতে ২ হাজার ২শ’ টাকা, সর্বশেষ নভেম্বর মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৮০টি মামলার বিপরীতে ১ লাখ ১২ হাজার ২শ’ টাকা জরিমানা করা হয়।

মাঠ পর্যায়ে অভিযান পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের অভিযানের ফলে মানুষের মধ্যে সচেতনতার তৈরী হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ মাস্ক পরতে অভ্যস্থ হচ্ছে। তবে এর ভিন্ন চিত্রও রয়েছে-যখন অভিযান চালানো হয় তখন পকেট থেকে বের করে মাস্ক পরেন। এটার জন্য সবার সচেতনতা হওয়া দরকার। নিজেদের প্রয়োজনেই মাস্ক পরা প্রয়োজন।

দাগনভূঞা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুমা জান্নাত বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভ প্রতিরোধে মাস্ক পরিধান ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে জনসাধারণকে মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করছি।

ছাগলনাইয়া উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) হোমায়রা ইসলাম বলেন, অভিযানে যা অল্প টাকা জরিমানা করা হলেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে এটি বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। অভিযানের ফলশ্রতিতে মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা বেড়েছে।

ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সাজিয়া তাহের বলেন, উপজেলা পর্যায়ে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে মানুষদের মাঝে সচেতনতা তুলনামূলক কম, আর সে কারণেই মাঠে সক্রিয় রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানা করে বাধ্য করা হচ্ছে মাস্ক পরতে। এর সাথে রয়েছে মাস্ক বিতরণ এবং সচেতনা কর্মসূচিও।

জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’। এটি বাস্তবায়ন করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। মানুষদের মাস্ক পরতে সচেতন করা হচ্ছে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের করা হচ্ছে জরিমানা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সরকারি দফতরগুলোতে পোস্টার ও ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। বর্তমানে টিকা হিসেবে সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, করোনা থেকে রক্ষা পেতে জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। দেশ থেকে করোনা প্রর্দুভাব শেষ হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে জেলায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।

Sharing is caring!