বিশেষ প্রতিনিধি->>

ফেনীতে চার দিনে নতুন করে আরো ২০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন ২০ জনসহ জেলায় আক্রান্ত বেড়ে ২০৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন সিভিল সার্জনসহ ৪২ জন। শনিবার পর্যন্ত জেলায় ১৭৯১ জন সুস্থ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন দিগন্ত।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, শনিবার নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ মলিকুলার ল্যাবে ফেনী জেলার ১২৭টি এবং ফেনী বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে ৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি দ্বিতীয় নমুনা। এতে নতুন করে ১৯ জন শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে ফেনী সদরে ১০ জন, ছাগলনাইয়ায় ৬ জন, পরশুরামে ২ জন ও পাশবর্তী জেলায় আরো একজন রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ফেনী বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে জেলার ৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে নতুন করে এক জন শনাক্ত হয়। আক্রান্ত জন ফেনী সদরের বাসিন্দা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ১৬ এপ্রিল ফেনীতে প্রথম এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রামন শনাক্ত হয়। শনাক্তের ২২৮ তম দিনে এসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৮৪ জন। ফেনীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জেনেক্সপার্ট ল্যাব, নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাব, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ১২ হাজারের ৩৪০টি নমুনার ফলাফলে উক্ত সংখ্যা শনাক্ত করা হয়।

আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, ব্যাংকার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিশু রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩৫ জনকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সদর উপজেলায় ৮৩৬ জন, দাগনভূঞা উপজেলায় ৪০৪ জন, ফুলগাজী উপজেলায় ১২৮ জন, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ২৬৭ জন, সোনাগাজী উপজেলায় ২৭৪ জন, পরশুরাম উপজেলায় ১৪৮ জন, অন্য উপজেলা থেকে নমুনা দিয়ে ২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭৯১ জন।

ফেনীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় সিভিল সার্জনসহ ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছে। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৪ জন, দাগনভূঞা উপজেলায় ৮ জন, ছাগলনাইয়ায় ৬ জন, সোনাগাজীতে ১১ জন, পরশুরামে ৩ জন।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ফেনীতে আক্রান্ত অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসা নিতে যেয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেলেও বেশিরভাগ মৃতব্যক্তিদের সংখ্যা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে তালিকায় যোগ হয়নি।

প্রসঙ্গত, ফেনীতে কোভিড-১৯ শনাক্ত’র চার মাসের মাথায় সংক্রমিতের সংখ্যা ১ হাজার ৫শ অতিক্রম করলো। সংক্রমিতের সংখ্যা ৫শ ছাড়াতে সময় লাগে ৭৬ দিন। পরের ৫শ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে সময় লাগে ২৬ দিন। আর পরবর্তী ৫শ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে ৩৫ দিন সময় লাগে। কোভিড-১৯ শনাক্ত’র সাত মাসের মাথায় সংক্রমিতের সংখ্যা ২ হাজার অতিক্রম করলো।

Sharing is caring!