সদর প্রতিনিধি->>

ফেনীর পাঁচগাছিয়ায় জমি বিক্রির কথা বলে ভাবীর ১০ লাখ টাকা নিয়ে সাত বছর লাপাত্তা হয়েছে ননদ। পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে রহিমা আক্তার নামে এক নারী একই গ্রামের মনোয়ারা বেগমের কাছে জমি বিক্রির কথা বলে ২০১৩ সালে ১০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। পরে মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করলে আদালত পলাতক আসামী রহিমা আক্তারকে এক বছরের কারাদন্ড ও চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার আদেশ দেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন। রহিমা আক্তার রতনপুর গ্রামের তৎকালীন প্রবাসী নুর আলম সেলিমের স্ত্রী।

মনোয়ারা বেগম বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে মাথা গোঁজার আশায় আমার স্বামী আবুল হোসেন জমি ক্রয় করতে ননদ রহিমা আক্তারকে ১০ লাখ টাকা প্রদান করেছে। ননদ রহিমা আক্তার জমি রেজিষ্ট্রি করে না দিয়ে, টাকা নিয়ে সটকে পড়েন। এরমধ্যে টাকার শোক ও সন্তানদের ভবিষ্যতের চিন্তায় অসুস্থ হয়ে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় স্বামী আবুল হোসেন মারা যায়। স্বামীর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে বসত ভিটাসহ জায়গা বিক্রি করেছিলো মনোয়ারা। বর্তমানে এক ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অর্থ সংকটে পড়ে তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

মামলা সূত্রে জানান, ২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে রহিমা আক্তার একই গ্রামের পাশ্ববর্তী বাড়ীর ভাবি মনোয়ারা বেগমের কাছে ১৫ শতক ভূমি বিক্রির কথা বলে ১৫ লাখ টাকা মূল্য সাব্যস্ত হয়। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা প্রদান করে এবং বাকী টাকা তিন মাসের মধ্যে জমা খারিজ করে ভূমি রেজিষ্ট্রি করার পর দেওয়া হবে কথা হয়। কিন্তু এর মধ্যে রহিমা আক্তার টাকা নিয়ে জমি রেজিষ্টি করে দিতে কালক্ষেপন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ২০/০৬/২০১৪ সালে রহিমা আক্তার জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে অপারগতা প্রকাশ করে প্রাইম ব্যাংক লি. ফেনী শাখার রহিমা আক্তারের নামে ১৫৬২১০৪০০০০২৪২ নং হিসাবে অনুকূলে ১০ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক নং- এসএএ-৫১০৩৭৫২ প্রদান করে। কিন্তু ২২/০৭/২০১৪ইং তারিখে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে বর্ণিত চেকটি ডিসঅনার হয়। পরে ভুক্তভোগী মনোয়ারা বেগম আইনজীবীর মাধ্যমে রহিমা আক্তারকে একটি লিগ্যাল নোটিশ দেন। কিন্তু রহিমা আক্তার লিগ্যাল নোটিশের কোন উত্তর না দেয়ায় ন্যায় বিচার পেতে মনোয়ারা বেগম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

আদালত দীর্ঘ শুনানী শেষে ২০১৭ সালে আসামী রহিমা আক্তারকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা প্রদানের আদেশ দেন। আসামী পলাতক থাকায় রহিমা আক্তারকে গ্রেপ্তারের জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যুর দীর্ঘপ্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও আসামী রহিমা আক্তার গ্রেপ্তার হয়নি।

Sharing is caring!