সোনাগাজী প্রতিনিধি->>

সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মধ্যে চেয়ার দখল নিয়ে ‘উত্তেজনা’ দেখা দিয়েছে। হাইকোর্টের আদেশ পেয়ে গত সোমবার দলবল নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান সামছুল আরেফিন পরিষদের চেয়ার দখল করে পর পর দুই দিন অফিস করে। পরে জোর করে চেয়ার দখল করা হয়েছে উল্লেখ করে গত বুধবার ফেনী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার সকালে দলবল নিয়ে চেয়ার দখলে নিয়ে অফিস করে সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন গঠন।

চেয়ার দখলের টানাটানিতে উভয়ের সমর্থকদের মাঝে বিরাজ করছে উত্তেজনা। দুই জনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সমর্থনের কারনে পরিস্থিতি জটিল রুপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে মোতায়েত করা হয়েছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, গত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সোনাগাজী সদর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় উপজেলা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক সামছুল আরেফিন। দায়িত্ব গ্রহনের পর তিন বছর কোন সমস্য না হলেও চতুর্থ বছরের মাথায় চেয়ারম্যান আরেফিনের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন ইমাম হোসেন গঠনসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য। এ নিয়ে চলিত বছরের মে মাসে ১২ জন ইউপ সদস্য চেয়ারম্যান আরেফিনের বিরুদ্ধে দুর্ণীতি,অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ দাখিলের কয়েকদিন পর সাতজন ইউপি সদস্য পুনরায় লিখিতভাবে জানায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তাদের কোন অভিযোগ নেই।

ফেনীর জেলা প্রশাসক ওযাহিদুজ্জামান অভিযোগ তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম জাকারিয়াকে দায়িত্ব দেন। তদন্ত শেষে গত জুন মাসে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের উপসচিব ইফতেখার আহমদ চৌধুরী গত ৬ অক্টোবর চেয়ারম্যান সামছুল আরেফিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন।

পরে ফেনীর জেলা প্রশাসক গত ৭ অক্টোবর ইউপি সদস্য ইমাম হোসেন গঠনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে এবং পরদিন ইমাম হোসেন গঠন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করে পরিষদের রুটিন মাফিক কাজকর্ম শুরু করেন।

এদিকে বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে সামছুল আরেফিন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে রিট পিটিশন দায়ের করেন। গত ২২ অক্টোবর বিচারপতি খসরুজ্জামান ও মাহমুদুল হাসান তালুকদারের দ্বৈত বেঞ্চে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। গত রবিবার সামছুল আরেফিন আদেশের লিখিত অনুলিপি ফেনী জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়ে পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে রুটিন মাফিক কাজকর্ম শুরু করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমাম হোসেন গঠন তাকে জোরপূর্বক পরিষদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে দাবী করে জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ করেন এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারন ডায়েরী করে বৃহস্পতিবার সকালে দলবল নিয়ে পুনরায় পরিষদে গিয়ে চেয়ার দখল করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন গঠন জানায়, জেলা প্রশাসকের আদেশে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।হাইকোর্টের আদেশের পর জেলা প্রশাসক যদি তাকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চিঠি দেন তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিবেন। তার আগে তাকে দায়িত্ব থেকে জোরপূর্বক সরানোর অধিকার চেয়ারম্যান সামছুল আরেফিনের নেই বলে জানান ইমাম হোসেন গঠন। হুমকির বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন বলে জানান তিনি।

চেয়ারম্যান সামছুল আরেফিন জানায়, হাইকোর্ট তাকে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছে তাই তিনি বৈধ চেয়ারম্যান। বৈধভাবে তিনি তার দায়িত্ব পালন করছে জানিয়ে বলেন আমার বিরুদ্ধে কাউকে জোরপূর্বক সরানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন।

জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে আমরা সামছুল আরেফিনকে বরখাস্ত করে ইমাম হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করেছি। হাইকোর্টের বরখাস্তের স্থগিতাদেশ আমাদের কাছে আসলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে তার আগ পর্যন্ত ইমাম হোসেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

Sharing is caring!