আদালত প্রতিবেদক->>

ফেনীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দীকাকে (রা.) নিয়ে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার মিঠুন দে ওরফে পিকলু নীল (৩৫) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদাল‌তে দায় স্বীকার ক‌রে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দি‌য়ে‌ছে।

মামলার তদন্তকারীর কর্মকর্তা ফেনী ম‌ডেল থানার উপ প‌রিদর্শক (এসআই) ইমরান হো‌সেন জানান, ফেনী জেলা জজ আদাল‌তের সি‌নিয়র জু‌ডি‌সিয়াল ম্যা‌জি‌স্ট্রেট মো. জা‌কির হো‌সেনের আদাল‌তে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩০ মি‌নিট থে‌কে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সা‌ড়ে ছয় ঘন্টা জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে পিকলু ফেসবু‌কে মুসলমান‌দের ধর্মীয় অনুভূ‌তি‌তে আঘা‌তের দায় স্বীকার ক‌রে নি‌জের কৃতক‌র্মের জন্য অনুতপ্ত ব‌লে আদালত‌কে জানায়।

এর আ‌গে বুধবার বিকা‌লে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী ম‌ডেল থানার উপ প‌রিদর্শক (এসআই) ইমরান হো‌সেন তা‌কে আদাল‌তের নি‌র্দেশ অনুযায়ী জেল হাজত থে‌কে ৩ দি‌নের রিমা‌ন্ডের জন্য থানা হাজ‌তে আ‌নেন। রিমা‌ন্ডের প্রথম দি‌নই পিকলু দায় স্বীকার ক‌রে পুলিশকে জবানবন্দি দেয়।

গত সোমবার ফেনী জেলা জজ আদাল‌তের সি‌নিয়র জু‌ডি‌সিয়াল ম্যা‌জি‌স্ট্রেট মো. জা‌কির হো‌সেনের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার ৭ দি‌নের রিমা‌ন্ডের আ‌বেদ‌ন করলে আদালত শুনানী শে‌ষে পিকলুর ৩ দি‌নের রিমান্ড মঞ্জুর ক‌রেছিলেন বলে জানিয়েছেন ফেনী কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানী।

পিকলু নীল শহরের নাজির রোড এলাকার কালি প্রসাদ দে ওরফে বাচ্চু দে’র ছেলে। সে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করে।

ধর্মীয় উস্কানির অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গত শুক্রবার পিকলু নীলকে গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ। এর আগে জিঙ্গাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে শহরের থানা এলাকা থেকে পিকলু নীলকে আটক করেছিলো পুলিশ।

মলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন এজহারের বরাত দিয়ে জানান, পিকলু তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি ‘পিকলু নীল’ থেকে ধর্মীয় উস্কানিমূলক বিভিন্ন প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পিকলু নীল তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে ইসলাম, মহানবী (সা.), আলেম ওলামা ও পর্দার বিষয়ে বিভিন্ন বিদ্রুপ মূলক পোষ্ট করেছে। এসব পোষ্টের মধ্যে ‘আয়েশা সিদ্দীকাকে (রা.) বিয়ের সময় তিনি শারারিক ভাবে যৌনক্ষম ছিলেন না’,‘ফতুয়া বাজীর গুষ্টি কিলাই-ভন্ডামির গুষ্টি কিলাই’, ‘এত পর্দা পর্দা মারেন-পর্দার সব ঠিক হইলে জানালায় গ্রিল লাগান কেন?’, ‘ঐতিহাসিক চুতিয়া সার্কাস’, ‘বাংলাবিরোধী মুসলমান’ সহ বিভিন্ন ধরণের লিখা ও মন্তব্য করে।

গত বৃহস্পতিবার ‘আয়েশা সিদ্দীকাকে (রা.) বিয়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ফেনীতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পিকলুকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন জন দাবি জানায়।

এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের ফজল উদ্দিন কারী বাড়ীর আশেক এলাহীর ছেলে ছানা উল্লাহ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

Sharing is caring!