আদালত প্রতিবেদক->>

সোনাগাজীর মতিগঞ্জে খুনের আসামী গোলাম সরোয়ার ১১ বছর পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমদের আদালতে হাজির হয়ে গোলাম সরোয়ার জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জেল-হাজতে প্রেরণ করেন বলে জানিয়েছেন আদালত (কোর্ট) পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) গোলাম জিলানী।

১১ বছর পর আগে ২০০৯ সালে সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামে জামাল উদ্দিন ও বিবি আয়েশা দম্পতি খুনের ঘটনার আসামী গোলাম সরোয়ার। সরোয়ার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও মতিগঞ্জ আরএমহাট উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের জনৈক জামাল উদ্দিন ও মো. শাহআলম পরিবারের সাথে ১শতক জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে। ওই বিরোধের জেরে ২০০৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী বিবি আয়েশাকে হুমকি-ধামকি ও মারধর করেন মো: শাহআলম, তার ছেলে রিয়াদ, স্ত্রী আজিমা আক্তার, সমাজপতি রফিকুল ইসলাম মাষ্টার ও সরোয়ার হোসেন। ওইদিন রাতেই বিবি আয়েশা মারা গেলে অজ্ঞাত আসামী করে সোনাগাজী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের মেয়ে হাজেরা আক্তার লাইলি।

আয়েশার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ওই ঘটনায় পুলিশ জড়িতদের বাদ দিয়ে নিহতের স্বামী জামাল উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বাদি তাতে আপত্তি জানালে আদালত পুন:তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। সিআইডি উল্লেখিতদের আসামী করে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার বাদি হাজেরা আক্তার লাইলী জানান, ঘটনার পর সৌদি আরব চলে যাওয়ার পর তার বাবা জামাল উদ্দিন ২০১৭ সালের নভেম্বরে দেশে ফিরেন। এদিকে বিরোধীয় ১ শতক সম্পত্তি নিয়ে ২০১৪ সালে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন তিনি। এ ঘটনায় ২০১৮ সালে ১৭ ডিসেম্বর আদাালতের রায় পেয়ে দখলে নিতে যান জামাল উদ্দিন। আসামীপক্ষের লোকজন মামলাটি তুলে নিতে এমনকি ওই জায়গায় না যেতে একাধিকবার হুমকি-ধামকি দেন। ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই ওই জায়গায় বসতিস্থাপন করতে গেলে জামাল উদ্দিনকে ব্যাপক মারধর করেন শাহ আলম ও রফিকুল ইসলাম মাষ্টার গংরা। ঘটনার পরদিন জামাল উদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেন। সবকটি মামলা তুলে নিতে তারা অব্যাহত হুমকি-ধামকি দেন। এরপর ৩১ জুলাই রাত ২ টার দিকে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর শেষে জামাল উদ্দিনকে বেদড়ক পিটিয়ে মুখে বিষপ্রয়োগ করে। পরে তাকে স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার অবস্থা আশংকাজনক দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরদিন ১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তিনি মারা যান। জামাল উদ্দিন বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন বলে চিকিৎসকরা জানালে এ ঘটনায় তার পুত্রবধু জাকিয়া আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।

জামাল উদ্দিনের উপর হামলার ঘটনায় তার দায়ের করা মামলায় পুলিশ তদন্ত শেষে ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

হাজেরা আক্তার লাইলী আরো জানান, বিভিন্ন সময় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে তাকেও বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। ২০১০ সালের শেষের দিকে আসামীপক্ষের লোকজন তাকেও মারধর করে। ২০১৮ সালের ১৫ মে সকালে শাহআলম ও তার জামাতা দাউদুল ইসলাম সহ পরিবারের লোকজন হামলা চালায়। মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে একপর্যায়ে শারিরীকভাবে হেনস্থা করেন। এ ঘটনায় তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে যৌন হয়রানীর মামলা দায়ের করেন। নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন জানিয়ে হাজেরা আক্তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু জানান, আসামীপক্ষের লোকজন একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বাদীর পরিবারকে ন্যায্য বিচার পেতে আইনী সহায়তা দেয়া হবে।

Sharing is caring!