পরশুরাম প্রতিনিধি->>

পরশুরামের ঋণের কিস্তির টাকা না দেয়ায় ঋণগ্রহীতা ও জামিনদারের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সুবার বাজার কিন্ডারগার্টেন সংলগ্ন সফিকুর রহমানের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় চারজন আহত হয়েছে। পরে মধ্যরাতে এনজিও সংস্থা বিজ এর উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম ও কর্মকর্তা আবু রাহাতসহ ৪ জনকে আসামী করে পরশুরাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঋণগ্রহীতা খোদেজা আক্তার বলেন, গত বছরের নভেম্বরে এনজিও সংস্থা বিজ থেকে মাসিক কিস্তিতে তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও তার ভাই মাসুদা মঈনুদ্দিন ২ লাখ ঋণ গ্রহণ করে। নিয়ম মাফিক এ বছরের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মাসিক কিস্তির টাকা দুইজনেই পরিশোধ করেছে। তবে মার্চ থেকে করোনার প্রাদুর্ভাবে কিস্তির টাকা প্রদান করতে না পারায় বিজ কর্মকর্তারা বারবার কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকে। রোববার টাকার জন্য কর্মকর্তারা বাড়িতে আসলে আমার স্বামী সফিকুর রহমান, মা রোকেয়া আক্তার, বাবা শাহাবুদ্দিন ও ভাই রিয়াজ উদ্দিনকে আমাদের বাড়ি আসতে বলি। এরপর বিজ কর্মকর্তা আবু রাহাত শাখা ব্যবস্থাপককে খবর দিলে তারাও আসে। ঋণ পরিশোধ নিয়ে কর্থাবার্তার একপর্যায়ে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিজ কর্মকর্তারা আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় সফিকুর রহমান, রোকেয়া আক্তার, শাহাবুদ্দিন ও রিয়াজ উদ্দিন আহত হয়েছে। পরে আহতরা পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে।

বিজের শাখা ব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম বলেন, খোদেজা আক্তার ঋণগ্রহীতা ছাড়াও তার ভাই মঈনুদ্দিনের ঋণের জামিনদার। গত বছরের নভেম্বর মাসে তাদের মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে ঋণ দেয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসলেও মার্চ হতে এ পর্যন্ত কোন কিস্তি প্রদান করেনি।

হামলা বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফুল আলম বলেন, আমরা কোন প্রকার হামলা করিনি। তারা আমাদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালালে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে আসি। করোনাকালীন সময়ে সবধরনের ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত করার সরকারি নির্দেশনার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এ ধরনের কোন চিঠি পাইনি।তাই আমাদের নিয়মিত কাজ আমরা চলমান রেখেছি।

পরশুরাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল আলম বলেন, হামলার ঘটনায় খোদেজা বেগম বাদী হয়ে বিজ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, আবু রাহাতের নাম উল্রেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছমিন আকতার বলেন, ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত করার সরকারি নির্দেশনার চিঠি বিজ কর্তৃপক্ষের না পাওয়ার বিষয়টি অসত্য ও ভিত্তিহীন। করোনা প্রাদুর্ভাব সময়ের শুরু হতে সকল সরকারি নির্দেশনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়েছে। চিঠি দিয়ে সকল সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে।

ইয়াছমিন আকতার আরো বলেন, কিস্তি প্রদান না করায় হামলার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!