বিশেষ প্রতিনিধি->>

ফেনীতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংকসহ ১৪৪টি আবেদিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩০টি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেয়েছে। বিভিন্ন কারণে ঝুলে আছে ৪৯টি, অপেক্ষমান ২২, তদন্ত হয়েছে ৭টি এবং ৩৬টি অসম্পূর্ণ আবেদন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহের) পরিচালক ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা। শনিবার দুপুরে ফেনীতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা এমন তথ্য জানান।

ফেনী সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে ও ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেনীর সিভিল সার্জন ডাক্তার মীর মোবারক হোসেন। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাসান শাহরিয়ার কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) ফেনী জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. সাহেদুল ইসলাম ভূঞা কাউসার ও ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবুল খায়ের মিয়াজী।

ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জোবায়ের মুন্নার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক মো. সাঈদুর রহমান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ফেনীর সহকারী পরিচালক সোহেল চাকমা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ দেওয়ান মোঃ মেহেদি হাসান, ডাঃ রৌশন জাহান আক্তার, সাংবাদিক মো. শাহাদাত হোসেন, জাহেদুল ইসলাম ফয়সাল।

প্রধান সমন্বয়ক ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হারুন উর রশিদ’র তত্বাবধানে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন অফিস ফেনীর মেডিকেল অফিসার ডা. শরফুদ্দিন মাহমুদ।

আরো বক্তব্য রাখেন দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন ও ফেনী জেলা প্রাইভেট হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য জাহিদুল ইসলাম ফয়সাল।

প্রধান অতিথি বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদের শুধু লাভের মানসিকতা পরিহার করে উন্নত সেবার মানসিকতায় ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। সরকারি অনুমোদনের জন্য এখন আর অধিদপ্তরে ঘোরাঘুরি করতে হয় না। অনলাইনে আবেদন করে তা পাওয়া সম্ভব। অনেকে যথাযথ তথ্য প্রদান করেন না তাই অনুমোদন ঝুলে যায়।

প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, এটি একটি অন্যান্য অসাধারণ আয়োজন। যা আমি অন্য কোথায়ও দেখি নাই। ফেনীতে বর্তমান স্বাস্থ্যসেবার মান দেশের অন্য জেলার তুলনায় অনেক ভালো। সেবা গ্রহিতা ও সেবা দানকারীর মাঝে দুরত্ব দূর করে, পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে খামখেয়ালিপনা বাদ দিয়ে যোগ্যতা সম্পন্ন জনবল কাঠামো বজায় রাখলে সবার জন্য সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল হোসেন, ডা. রিপন নাথ, ফেনী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এস আর মাসুদ রানা, দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রুবাইয়াত বিন করিম, পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খালেদ মাহমুদ, ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. এ বি এম মোজাম্মেল হক, ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিহাব উদ্দিন, ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা আবদুল গোফরান বাচ্চুসহ অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!