আদালত প্রতিনিধি->>

ফেনী শহরের পাঠানবাড়িতে তাসপিয়া ভবনে ডিপ্রোমা প্রকৌশলী ইউনুছ বাবু হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে ওই ভবেনর কেয়ারটেকার শাহীন। বুধবার ফেনী জজ আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শহর ফাঁড়ি ইনচার্জ পরিদর্শক সুদীপ রায় জানান, দুই দফায় শাহীনকে ৯ দিনের রিমান্ডে শেষ বুধবার শাহীনকে আদালতের হাজির করা হয়। এসময় আদালতে বাবু হত্যাকান্ডে নিজের দায় স্বীকার করে শাহীন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। শাহীন দাগনভূঁঞা উপজেলার দক্ষিন জায়লস্কর গ্রামের মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে।

আদালত সূত্র জানান, জবানবন্দিতে শাহীন বলেন, গত ৮ অক্টোবর রাতে নারীর প্রলোভন দেখিয়ে বাবু ও শাহরিয়ারকে তার নিজের কক্ষে নিয়ে আসে শাহীন। তার কক্ষে নারী না থাকায় রাত দুইটা নাগাদ শাহরিয়ারের সাথে তার তর্কতর্কি হয়। বাবু তখন ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে সে শাহরিয়ারকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তখন শাহরিয়ারের চিৎকার শুনে বাবু ঘুম থেকে জেগে যায়। তখন শাহীন নিজেকে বাঁচানোর জন্য দা ও হাতুড়ি নিয়ে বাবুর উপর হামলা করে। এতে বাবু লুটিয়ে পড়ে। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাদের এক এক করে ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে ঢাকনা আটকিয়ে দেয়।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, ফেসবুকের মাধ্যমেই শাহীনের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বাবুর। সে সূত্র ধরে শাহরিয়ারের সাথেও তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তার কোন স্ত্রী নেই, সে অবিবাহিত, তবু নিজের স্ত্রীসহ বিভিন্ন নারীদের সাথে থাকার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ছেলেদের নিয়ে নিজেই ওদের সাথে যৌনতা করতো- এ নিয়েই প্রথমে শাহরিয়ারের সাথে বিরোধ, ঝগড়া হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শহর ফাঁড়ি ইনচার্জ পরিদর্শক সুদীপ রায় জানান, পুলিশ কেয়ারটেকার শাহীনের কক্ষ থেকে বিছানার চাদর, তোয়ালে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর বাবুর পরনের প্যান্ট, বেল্ট, ছোরা, দা-হাতুড়ি, শাহীনের টি-শার্ট, দুটি মানিব্যাগ ও বাবুর ব্যাবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়। এরমধ্যে রক্তমাখা আলামতগুলো বিশ্লেষণের জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় আহত শাহরিয়ার এখনও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রসঙ্গত; গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে পুলিশ তাসফিয়া ভবনের সেফটিক ট্যাংক থেকে ইউনুছ নবী বাবুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। তার আগেরদিন সকালে আহত অবস্থায় বাবুর বন্ধু শাহরিয়ারকে ওই সেফটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়। বাবু হত্যার ঘটনায় মা রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে হত্যাকান্ডে ইউনুছ নবী রাকিবের সংশ্লিষ্টতার এখনও কোন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র।

Sharing is caring!