শহর প্রতিনিধি->>

ফেনী ডিস্ট্রিক অনলাইন স্কুলের আয়োজনে অনলাইন ক্লাস/ পরীক্ষার টুলস শীর্ষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসার হলরুমে আয়োজিত প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান।

জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনায় ও ফেনী জেলা এ্যাম্বাসেডরগণের কারিগরি সহযোগিতায় কর্মশালায় অতিথি ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী সলিম উল্লাহ। প্রশিক্ষণে জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম, সোনাগাজী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল আমিন, সদর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কামরুন নাহার, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফকির আহমদ ফয়েজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মো. ওয়াহিদুজজামান বলেছেন, অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন চলে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে শিশুটি গেমস সহ নানা বিষয়ে আসক্তি হচ্ছে। অথচ তারা পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু কোন খেলাধুলা হয়না। চর্চা না থাকায় ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, হ্যান্ডবল, সাঁতার পারেনা। প্রত্যেক ছাত্রকে সাঁতার জানা থাকতে হবে। এতে করে কোন শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবেনা। ফলে তারা অন্য পথে পা বাড়াচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধষর্ণের মাত্রা বেড়ে গেছে। ফেনীতেও অনেকগুলো ধর্ষণ-বলাৎকারের ঘটনা ঘটছে। বাবার কাছে মেয়েরা নিরাপদ নয়। চাচা-ভাতিজীকে ধর্ষণ করছে। নীতি-নৈতিকতা না শিখার কারণে সমাজে অধ:পতন হচ্ছে। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী সলিম উল্লাহ জানান, করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় জেলায় ১৩৬টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসায় ৭ হাজার শিক্ষক অনলাইনে নিয়মিত পাঠদান করাচ্ছেন।

গুগল ফরমে প্রশ্ন প্রনয়ণ ও মূল্যায়ণ,গুগল ক্লাস রুম, ওবিএস, ফিলমোরা, ক্যামটেসিয়া, শিক্ষায় জুমের ব্যবহার, লাইভ ক্লাস, এডিটেড ক্লাস, ইউটিউব, শিক্ষক বাতায়নে কন্টেন্ট আপলোড/ডাউনলোড, মুক্তপাঠ ইত্যাদি বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ফেনী জেলার ২১ জন এ্যাম্বাসেডর। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় ৮০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে সদর উপজেলার ৩২, ছাগলনাইয়া উপজেলার ১৮, সোনাগাজী উপজেলার ১০, দাগনভূঞা উপজেলার ১২, পরশুরাম উপজেলার ৮ ও ফুলগাজী উপজেলার ৫ জন শিক্ষক অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, অনলাইন স্কুল কার্যক্রমে ফেনী জেলা দেশের ৩য় স্থান অর্জন করেছে। এর মধ্যে রাজবাড়ী প্রথম ও লালমনিরহাট দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

Sharing is caring!