ঢাকা অফিস->>

চেক ডিজঅনার বা প্রত্যাখ্যানের ঘটনায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলার বিচারের এখতিয়ার শুধুমাত্র যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতকে দিয়েছে হাই কোর্ট।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চ রোববার এক রায়ে এ নির্দেশ দেয়।

এই আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ আদালতেই আপিল করা যাবে।

চাপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানার এ এ এম জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তির করা আবেদনের শুনানি শেষে এ রায় দিল আদালত।

আদালতে আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব, মোহাম্মদ কাওছার, মাজেদুল কাদের ও মোজাম্মেল হক।

পরে হুমায়ুন সাংবাদিকদের বলেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন থাকা চেক ডিজঅনারের মামলাগুলো ১৫ দিনের মধ্যে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে। আগের আদালতে মামলাটি যে অবস্থায় ছিল স্থানান্তরিত হওয়ার পর সে অবস্থা থেকেই বিচারকাজ চলবে।

আদালতের এই নির্দেশনা সব জেলা ও দায়রা জজ আদালতকে জানাতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

হুমায়ুন বলেন, চেক ডিজঅনার বা প্রতারণার মামলার বিচার হয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। আদালত নির্ধারণ করে দিতেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আবার যুগ্ম জেলা জজ আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হত জেলা ও দায়রা আদালতে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত কিংবা জেলা ও দায়রা আদালতের আদেশ ও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা গত হাই কোর্টে। এই বিধানটি বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক। এর ফলে বিচারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

“রায়ের নির্দেশনা মতে, চেক ডিজঅনারের মামলার বিচার কেবলমাত্র যুগ্ম দায়রা জজ আদালত করতে পারবে। দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজ চেকের মামলার বিচার করতে পারবেন না।”

এএম জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের অভিযোগে তিনটি মামলা করে ইসলামী ব্যাংক। মামলাগুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

ওই তিন মামলার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর আলাদা রিট আবেদন করেন তিনি। তখন প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রিটে রুল জারি করে হাই কোর্ট।

চেক ডিজঅনারের মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না,তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

সেই রুল নিষ্পত্তি করেই এ রায় দিল উচ্চ আদালত।

Sharing is caring!