নিজস্ব প্রতিনিধি->>

ফেনীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ ছেলে শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকীতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। রেববার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ফেনী জেলার আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোছা. সুমনী আক্তারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বি.কম।

জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুল আবছার ভুঞার সঞ্চালনায় শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে উপস্থিত শিশুদের মধ্যে বক্তব্য রাখে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল নাঈম, ফেনী শাহীন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেনীর ছাত্র আব্দুস সামি ভুঁঞা।

জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ হাজার বছর শোষণ নিপীড়ন সহ্য করেছে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে স্বাধীনতা পেয়েছে। যারা এবং যে গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, স্বাধীনতাকে তারা সহ্য করতে পারেনি। রাসেল হত্যাকারীদের দেশের মানুষ সর্বদা ধিক্কার ও ঘৃণা জানাবে। তাদের নিষ্ঠুরতার হাত হতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ছোট্ট অবুঝ রাসেলও বাঁচতে পারে নি।

ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বি.কম বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে গেলে রাসেলকে দেখতাম কোলে বসে আছে। যারা ইতিহাসের বর্বরোচিত এ হত্যাকান্ডে যুক্ত ছিল তারা মানুষ ছিল না। দানবরা সবসময় সমাজে ঘৃণিত হয়, ধিকৃত হয়। তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে রাসেল এর মতো হয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে, তবে রাসেল সবার মাঝে বেঁচে থাকবে।

রচনা প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান অর্জন করা শিশু সুমাইয়া ফেরদৌস লামিয়া বলেন, আজকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠতম পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিনে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত। পুরস্কার পেয়ে আমি অনেক খুশি।

জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুল আবছার ভুঞা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারনে ভার্চুয়ালি সব প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতার ৮টি বিভাগে মোট ২৪ জনকে পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চিত্রাঙ্কনের তিন বিভাগে মোট ৯ জন, আবৃত্তিতে তিন বিভাগে ৯ জন এবং রচনা প্রতিযোগিতায় দুই বিভাগে ৬ জন বিজয়ীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে পরশুরামে শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। রোববার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পরশুরাম উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল করিম মজুমদার বাদল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নু এমং মারমা মং, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সামছুন নাহার পাপিয়া, উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো বোরহান উদ্দিন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শহিদুর রহমান প্রমুখ।

পরে অতিথিরা শিশু একাডেমি আয়োজিত চিত্রাংকন, আবৃত্তি প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

Sharing is caring!