শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীতে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চটি শহর ত্যাগের সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার শহরের মদিনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে লংমার্চের ৬টি যাত্রীবাহি বাস।

লংমার্চের সমাবেশ চলাকালীন অংশ নেয়া কিছু যুবক সমাবেশ স্থল হতে বের হয়ে এসে ট্রাংক রোডের দোয়েল চত্ত্বরে ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর ফেস্টুনে রং মেখে দেয় এবং ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য লেখে। কর্মসূচি বহির্ভূত এ কার্যকলাপে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের মধ্যে বাক বিতন্ডা হয়। এছাড়াও একপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সাথে তাদের বাক বিতন্ডা হয়। এসময় ফেনী সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান ও ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সমাবেশ ও প্রচারাভিযান করে ফেনী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের দিকে লংমার্চ যাওয়ার সময় কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলে কয়েকজন কয়েকজন সন্ত্রাসী লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। এসময় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হৃদয়, ইমা, শাহাদাত, অনিক, আসমানি আশা, জাওয়াদসহ ১০ জন আহত হয়।

আহত ছাত্র ইউনিয়নকর্মী ইমা বলেন, “ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিত একজন আমাকে পিছন থেকে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে আমি পড়ে কোমরে আঘাত পাই। পরে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা করে। পুলিশ নিশ্চুপ ছিল।”

আহত ছাত্র ইউনিয়নকর্মী আসমানি আশা বলেন, “পুলিশের ইশারায় ছাত্রলীগের কর্মীরা লাঠি ও লোহার রড নিয়ে হামলা করে। মিছিলের পেছন থেকে ইট, লোহার টুল ছুড়ে মারে। পুলিশ কিছুই করেনি।”

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ফেনী শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ফেনীতে সমাবেশের পরিচালক পংকজ নাথ সূর্য বলেন, সমাবেশে সরকার ও ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে বক্তব্য দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের উপর হামলা করা হয়। হামলাকারীরা সরকার দলের লোক। এ হামলা ন্যক্কারজনক। হামলা করে আন্দোলন দমিয়ে দিতে চায় সন্ত্রাসীরা।

বাসদের ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হক চৌধুরী রাসেল দাবি করেন, ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এ হামলা করা হয়েছে।

হামলায় আওয়ামী লীগের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুশেন চন্দ্র শীল। তিনি বলেন, “লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা শহরের জিরো পয়েন্টে এলাকায় থাকা প্রধানমন্ত্রী ও সাংসদ নিজাম হাজারীর ছবি সম্বলিত ফেস্টুনে বিরুপ মন্তব্য লিখে চিকা মারে। “এতে সাধারণ মানুষ ক্ষুবধ হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়। তবে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কেউ হামলার সাথে জড়িত নয়।”

Sharing is caring!