বিনোদন প্রতিবেদক->>

‘একজন ধর্ষককে চিনে রাখুন…, আমাকে ধর্ষণের কী স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা!’ একাধিক স্ক্রিনশট দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে এমন ক্যাপশন লিখেছেন সংগীতশিল্পী পুতুল। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশিকুর রহমান নামের এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুতুলকে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন। পুতুল বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে আলোচনা তুললে ওই তরুণ ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেন। পুতুলও তাঁকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু পরে ওই তরুণ ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেন। বিষয়টি একরকমের চালাকি বুঝতে পেরে আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন এই সংগীতশিল্পী।

পুতুল জানান, আগামীকাল বুধবার থানায় গিয়ে তিনি সাধারণ ডায়েরি করবেন। এরপর মামলা করার কথাও ভাবছেন। পুতুল বলেন, ‘শুধু তারকা নয়, সবাইকে এই ব্যাপারগুলো সামনে আনতে হবে। হুমকি পেয়ে, হেনস্তা হয়ে চুপ করে বসে থাকার কারণে এই ধরনের পুরুষদের সাহস বেড়ে গেছে। ফেসবুকে যাঁরা এমন করে থাকেন, তাঁদের নাম, পরিচয়, অ্যাকাউন্ট লিংকসহ প্রকাশ করে দিতে হবে। এভাবে সচেতনতা বাড়াতে পারলে এই ধরনের অপরাধ কমতে বাধ্য।’

‘শুধু তারকা নয়, সবাইকে এই ব্যাপারগুলো সামনে আনতে হবে। হুমকি পেয়ে, হেনস্তা হয়ে চুপ করে বসে থাকার কারণে এই ধরনের পুরুষদের সাহস বেড়ে গেছে।’

আশিকুর রহমান নামের ওই তরুণ ক্ষমা চাওয়ার পর পুতুল ফেসবুকে লেখেন, ‘ধর্ষণের ইচ্ছা পোষণ করা ছেলেটি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছে তার মন্তব্যের জন্য। ওই তরুণের ভাষ্যমতে, তার আইডি থেকে অন্য কেউ মন্তব্যটি করেছে! ঘটনা সত্যি হোক বা মিথ্যা, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তটি স্থগিত করেছি। তা না হলে মামলার জাঁতাকলে তার বেঁচে থাকা দায় হতো এবং সেটাই হওয়া উচিত।’

ফেসবুকে পুতুল তাঁকে ক্ষমা করে পোস্ট দিতেই ওই তরুণ ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলেন। এতে ভীষণভাবে বিরক্ত হয়ে পুতুল আবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন। পুতুল বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়ার এক রাত পার হতেই সেই ভিডিও ডিলিট করে দিয়েছে। এই জন্যই জিডি করার বিষয়টি আসছে।’

পুতুল সব নারীর উদ্দেশে বলেন, ‘নারীদের বলছি, সরাসরি ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণের ইঙ্গিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়ামাত্র রুখে দাঁড়ান। আইন কিন্তু নারীর পক্ষে। ভয় নয়, আওয়াজ তোলো। তোমার দৃঢ়চেতা মনোভাবই কিন্তু ধর্ষকের ভিত্তি নাড়িয়ে দেবে।’
পুতুল আরও বলেন, ‘ধর্ষকদের বলছি, খুব সাবধান! সময় পাল্টাচ্ছে! “ধর্ষণ” শব্দটা উচ্চারণের আগেও নিজের এবং পরিবারের কথা ভেবে নিস। তোদের জীবন নরকে পরিণত হয়ে যাবে কিন্তু! মুখ লুকানোর জায়গা পাবি না।’

Sharing is caring!