শহর প্রতিনিধি->>

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দুর্যোগ সহনীয় ঘর পেলো ফেনীর ১৪৪টি পরিবার। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান।

‘দূর্যোগ ঝুকি হ্রাসে সুশাসন, নিশ্চিত করবে টেকসই উন্নয়ন’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোছা. সুমনী আক্তার।

সভায় বক্তব্য রাখেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোসলে উদ্দিন, ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরীন সুলতানা, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস এস আর মাসুদ রানা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অফিসের ভেটেনারী সার্জন ডা. হেলাল উদ্দিন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবদুল বাতেন সরকার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অফিসার মোহা. আবু সায়েম মাসুম, মজিব কিল্লা উন্নয়ন প্রকল্পের উপ- সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নো. আশিকুর রহমান, রেড ক্রসিন্ট ফেনী ইউনিটের সহকারী পরিচালক আলাউদ্দিন পাটোয়ারী, ফেনী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আফতাবুল ইসলাম, ব্র্যাক জেলা সমন্বয়কারী চৌধুরী শরীফুল রহমান পন্নী প্রমুখ। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব মানুষের সুরক্ষা বিবেচনায় রাখেন। অসহায় পরিবারের আবাস নিশ্চিতে তিনি প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি আমাদের মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ রোধে ভূমিকা রাখতে হবে। ঘরবাড়ি নির্মাণ করার সময় নিয়ম-নীতি মেনে করতে হবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমীন জানান, ফেনীতে নির্মিত ১৪৪টি দুর্যোগ সহনীয় ঘরের মধ্যে ফেনী সদরে ১৮টি, দাগনভূঁঞায় ২৪টি, ছাগলনাইয়ায় ২৪টি, পরশুরামে ২৪টি, ফুলগাজীতে ২৪টি ও সোনাগাজীতে ৩০টি নির্মাণ করা হয়েছে। যারা গৃহহীন কিন্তু দুই বা তিন শতক জমি আছে অথচ ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই, তাদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গভবন থেকে সারাদেশে একযোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নবনির্মিত ১৭ হাজার পাঁচটি দুর্যোগ সহনীয় ঘরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষ্যে সোনাগাজীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সুশান, নিশ্চিত করবে টেকসই উন্নয়ন’ স্লোগানকে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারমান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেবের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাছলিমা শিরিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জোবেদা নাহার মিলি, আমিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির, চরচান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূরুল আমিন প্রমুখ।

অপরদিকে দাগনভূঞায় দুর্যোগ সহনশীল ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষ্যে দাগনভূঞা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্যোগ সহনশীল ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, দাগনভূঞার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুবাইয়াত বিন করিম, ভাইস চেয়ারম্যান শাহীন মুন্সী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকসানা সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দুর্যোগ সহনীয় ঘর এর চাবি ২৪ জন সুবিধাভোগীর মাঝে তুলে দেয়া হয়।

অন্যদিকে দুর্যোগ, ঝুঁকি হ্রাসে সুশাসন নিশ্চিত করবে উন্নয়ন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ছাগলনাইয়া উপজেলাও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। সকালে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ছাগলনাইয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার সাজিয়া তাহেরের সভাপতিত্ব সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক মজুমদার ,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিবি জোলেখা শিল্পী।

সভায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দসহ সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!