নিজস্ব প্রতিবেদক->>

ছাগলনাইয়ায় নীতি বহির্ভূত কাজে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ছাগলনাইয়া এএসপি সার্কেল অফিসে দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীরকে ক্লোজড করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন এএসপি ছাগলনাইয়া সার্কেল নিশান চাকমা।

তিনি জানান, এসআই আলমগীরের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ হেডকোয়াটার ও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নজরুল ইসলাম নামে একজন ব্যবসায়ী একটি লিখিত অভিযোগ করেন।অপহরণ সংক্রান্ত একটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এসআই আলমগীরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সঠিক তদন্তের স্বার্থে আলমগীরকে ক্লোজড করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আরিফিন আজাদ বাদল নামে এক ব্যবসায়ী কোনো প্রমাণপত্র ছাড়া বেশ ক’জন জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিলে ব্যবসায়ী নজরুলের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। এক পর্যায়ে গত ১৭ জুন চক্রটি তার বাড়িতে হানা দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘরে ঢুকে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে ঘরে থাকা ব্যবসায়িক, জমি, ফ্ল্যাটের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজসহ মূল্যবান জিনিসপত্র জোরপূর্বক গাড়িতে করে নিয়ে যায়।

পরে অস্ত্র ও মাদকের মামলার ভয় দেখিয়ে গত ১৮ জুন ভোরে তাকে বাড়ি থেকে প্রাইভেটকারে করে তুলে নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে ছাগলনাইয়া থানায় কর্মরত এসআই আলমগীরসহ তার একটি আবাসিক এলাকার সাড়ে ছয় কাঠার জমিটি লিখে নেয় এবং ব্যবসায়িক লাইসেন্স হস্তান্তরের অঙ্গিকার নামাসহ ৮/১০টি ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেয়। সেখানে আরও অজ্ঞাত ১৫-২০ জন উপস্থিত ছিলেন। পরে কৌশলে এসআই ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।

পরে এসআই আলমগীর মোবাইল ফোনে জানান, চুক্তি ছিল লাইসেন্সসহ জমি লিখে নেওয়া, কিন্তু ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি তিনি জানতেন না।

ব্যবসায়ী নজরুলের এমন অভিযোগ নিয়ে জেলা পুলিশ তদন্তে নামে। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলছে বলে জানায় পুলিশ।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানান, সোমবার রাতে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক নোটিশে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

Sharing is caring!